বি আর গাভাইয়ের এই সিদ্ধান্ত এক বিরল নজির বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার ছিল প্রধান বিচারপতি হিসাবে গাভাইয়ের শেষ কর্ম দিবস। তবে আইন অনুযায়ী নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ীকেই দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।

শেষ আপডেট: 24 November 2025 14:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি (Cheif Justice Of India) সূর্য কান্ত (Surya Kant)। তিনি বিচারপতি বি আর গাভাইয়ের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
রাষ্ট্রপতি ভবনে সোমবার সকালে ঘন্টাখানেকের এই অনুষ্ঠান শেষে সুপ্রিম কোর্ট এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আধিকারিকেরা একটি ঘটনায় বিস্মিত হন। শপথ নিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সুপ্রিম কোর্টে যান। সেইমতো তিনি গাড়িতে উঠতে রাষ্ট্রপতি ভবনের পোর্টিকোয় এসে দাঁড়ান। দেখা যায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির জন্য বরাদ্দ মার্সিডিজ বেঞ্জ পোর্টিকোর দিকে এগিয়ে আসছে। প্রধান বিচারপতির সূর্য কান্ত তাই সুরে দাঁড়ান। কারণ ওই গাড়িতে করে এসেছেন সদ্য অবসর নেওয়া প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই।
কিন্তু সেই গাড়ির চালক নেমে এসে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে সেটিতে উঠতে আমন্ত্রণ জানান। চালক জানান, সদ্য প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি বিআর গাওয়াই এই গাড়িতে রাষ্ট্রপতি ভবনে এলেও তিনি বাড়ি ফিরবেন ব্যক্তিগত গাড়িতে। নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ গ্রহণ করায় তিনি সুপ্রিম কোর্টের মার্সিডিজ বেঞ্জ ছেড়ে দিয়েছেন। যাতে সদ্য দায়িত্ব নেওয়া প্রধান বিচারপতি ওই গাড়িতে শীর্ষ আদালতে পৌঁছতে পারেন।
বি আর গাভাইয়ের এই সিদ্ধান্ত এক বিরল নজির বলে সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার ছিল প্রধান বিচারপতি হিসাবে গাভাইয়ের শেষ কর্ম দিবস। তবে আইন অনুযায়ী নতুন প্রধান বিচারপতি শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ীকেই দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়।
সেইমতো সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয় গাভাইয়ের বাড়িতে সোমবার সকালে বরাদ্দ মার্সিডিজ বেঞ্জ পাঠায়। সেটির পেছনে আসে গাভাইয়ের ব্যক্তিগত গাড়ি। রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছানোর পর তিনি চালককে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলে দেন ফিরবেন ব্যক্তিগত গাড়িতে। মার্সিডিজ বেঞ্জ যেন নতুন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে দেয়।
ওয়াকিবহালমহল মনে করছে বিচারপতি গাভাই এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই পদস্থ ক্ষমতাধরদের বার্তা দিয়েছেন যারা অবসরের পরও সরকারি বাংলো সহ নানান সুযোগ সুবিধা ভোগ করে চলেন। দুর্ভাগ্যের হল এই তালিকায় নাম জুড়েছে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের। তিনি অবসর নেওয়ার পর বহুদিন প্রধান বিচারপতির জন্য বরাদ্দ বাংলোয় থাকছিলেন।
অবসরের পর সরকারি বাড়ি, গাড়ি না ছাড়ার 'অসুখ' গোটা দেশেই আছে। তবে দিল্লিতে তা মাত্রা ছাড়িয়েছে। প্রায়ই কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের অফিসারেরা পুলিশ নিয়ে গিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বর্তমান সদস্য বিহারের নেতা চিরাগ পাসওয়ানকে বছর দুই আগে দিল্লির অভিজাত এলাকার একটি প্রথম শ্রেণির বাংলো থেকে পুলিশ দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। মন্ত্রী থাকাকালীন তার প্রয়াত পিতা রাম বিলাস পাসোয়ান যে বাংলায় থাকতেন সেখানে পার্টি অফিস খুলে বসে ছিলেন চিরাগ। রাম বিলাসের বাংলোটি ছিল সনিয়া গান্ধীর ১০ জনপথের লাগোয়া।