পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, হুসেইনির ছদ্মবেশে থাকা ও পরিচয় বদলের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ২০০৪ সালে দুবাইয়ে তিনি নিজেকে ‘গোপন নথি-সহ বিজ্ঞানী’ বলে দাবি করেন।
.jpeg.webp)
ভুয়ো বিজ্ঞানী
শেষ আপডেট: 30 October 2025 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের শীর্ষ পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারে (BARC) নকল বিজ্ঞানী। তাঁর কাছ থেকে সন্দেহজনক পারমাণবিক তথ্য (nuclear data) ও এক ডজনেরও বেশি মানচিত্র বাজেয়াপ্ত করেছে মুম্বই পুলিশ। উদ্ধার হওয়া নথিগুলি এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে, এগুলিতে কোনও গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য রয়েছে কি না, তা জানার জন্য। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে তখনই।
গত সপ্তাহে মুম্বইয়ের ভারসোভার একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় আখতার কুতুবউদ্দিন হুসাইনিকে। তিনি নিজেকে কখনও আলি রাজা হুসেইনি (Ali Raza Hussaini), কখনও আলেকজান্ডার পামার বলে নিজের পরিচয় দিতেন। পুলিশ তাঁর কাছ থেকে উদ্ধার করেছে একাধিক ভুয়ো পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, এমনকি নকল BARC পরিচয়পত্রও।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, গত কয়েক মাসে হুসেইনি একাধিক আন্তর্জাতিক ফোন কল করেছিলেন। তাঁর কল রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ মনে করছে, বিদেশি নেটওয়ার্কের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, যা হয়তো ওই সন্দেহজনক পারমাণবিক তথ্যের সঙ্গেও যুক্ত।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, হুসেইনির ছদ্মবেশে থাকা ও পরিচয় বদলের ইতিহাস অনেক পুরোনো। ২০০৪ সালে দুবাইয়ে তিনি নিজেকে ‘গোপন নথি-সহ বিজ্ঞানী’ বলে দাবি করেন। এর পরই তাঁকে সেখান থেকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। কিন্তু তাতেও থেমে থাকেননি। ভুয়ো পাসপোর্ট ব্যবহার করে পরে আবার দুবাই, তেহরান ও আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা মুনাজ্জিল খান না কি আখতারের ভাইয়ের জন্য দুটি পাসপোর্ট জাল করেছিলেন। ওই পাসপোর্টে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছিল, সেটি আবার জমশেদপুরের একটি বাড়ির, যা প্রায় ৩০ বছর আগে বিক্রি হয়ে গিয়েছিল আখতারের বাবার মৃত্যুর পর। পাসপোর্ট দু’টি বানানো হয়েছিল হুসেইনি মহম্মদ আদিল ও নাসিমউদ্দিন সৈয়দ আদিল হুসেইনির নাম ব্যবহার করে।
পুলিশের সন্দেহ, আখতার ও তাঁর ভাই আদিল দু’জনেই নকল পরিচয়পত্র ও ভুয়ো নথি ব্যবহার করে বিদেশে যাতায়াত করতেন। তদন্তে জানা গেছে, আখতারের ভাই আদিল হুসেইনিকেও সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তিনিই না কি আখতারকে মুনাজ্জিল খানের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন।
পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে জেরার সময় আখতার দাবি করেছিলেন, তাঁর ভাই বহু বছর আগে মারা গিয়েছেন। কিন্তু তদন্তে উঠে এসেছে, ভাই এখনও জীবিত।
এই ঘটনার সঙ্গে আরও এক জনের নাম জড়িয়েছে। মুনাজ্জিল খানের ভাই ইলিয়াস খানকেও চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তিনিও এখন পলাতক। অভিযোগ, তিনিই আখতার হুসেইনিকে ভুয়ো শিক্ষাগত সনদ, স্কুল ও কলেজের সার্টিফিকেট সরবরাহ করেছিলেন।