শনিবার থেকে দিল্লিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পুরনো পণ্যবাহী গাড়ির ওপর। বিএস–IV মান পূরণ না করা বাণিজ্যিক যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হবে বর্ডার থেকেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 November 2025 08:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে দিল্লিতে ঢুকতে পারবে না পুরনো বাণিজ্যিক পণ্যবাহী গাড়ি। যেসব যানবাহন বিএস (BS)–IV মানদণ্ডে পৌঁছয়নি, সেগুলিকে রাজধানীতে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে দিল্লির পরিবহণ দফতর। এই নিয়ম কার্যকর করতে পরিবহণ দফতর ও ট্র্যাফিক পুলিশের তরফে যৌথভাবে গড়ে তোলা হয়েছে ২৩টি এনফোর্সমেন্ট টিম।
পরিবহণ দফতরের এক শীর্ষকর্তা জানিয়েছেন, দিল্লিতে আসা গাড়িগুলির উপর নজরদারির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্যিক গাড়ি ২৩টি প্রধান প্রবেশপথ দিয়ে রাজধানীতে ঢোকে। এই সব জায়গায় ট্র্যাফিক পুলিশ ও পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত দল মোতায়েন থাকবে। যেসব গাড়ি নির্ধারিত মান পূরণ করছে না, সেগুলিকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
দিল্লিতে প্রবেশের ওই ২৩টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে কুন্ডলি বর্ডার, রাজোকরি বর্ডার, টিকরি বর্ডার, আয়ানগর বর্ডার, কালিন্দি কুঞ্জ বর্ডার, আউচান্দি, মান্ডোলি, কাপাশেরা এবং দ্বারকা এক্সপ্রেসওয়ের বজঘেরা টোল গেট।
নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে?
প্রতিটি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। অনুমান করা হচ্ছে, বর্তমানে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার বাণিজ্যিক গাড়ি বিএস–IV মানের নীচে পড়ে। পরিবহণ দফতর এই বিষয়ে দিল্লি পুরসভার কাছ থেকে সঠিক তথ্য চেয়েছে, তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি।
এই অভিযান চলবে দিনে দুই শিফটে, সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা, এবং রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত।
বিএস–IV মান পূরণ করা পণ্যবাহী ডিজেল গাড়িগুলি ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লিতে ঢোকার অনুমতি পাবে, যা একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। তবে দিল্লিতে নথিভুক্ত বাণিজ্যিক গাড়ি, বিএস–VI ডিজেল গাড়ি, বিএস–IV ডিজেল গাড়ি (২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত), এবং সিএনজি, এলএনজি বা বিদ্যুৎচালিত গাড়িগুলির উপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।
গত ১৭ অক্টোবর বায়ু মান নিয়ন্ত্রণ কমিশন (CAQM) জানায়, বায়ুদূষণের বাড়বাড়ন্তের মধ্যে ১ নভেম্বর থেকে দূষণকারী বাণিজ্যিক যানবাহনের দিল্লি প্রবেশে বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। এক সিনিয়র ট্র্যাফিক পুলিশ অফিসার জানান, এই ব্যাপারে হরিয়ানা পুলিশের সঙ্গে হাত মেলানো হয়েছে, কারণ গুরুগ্রামের দিক থেকেই সবচেয়ে বেশি গাড়ি দিল্লিতে ঢোকে। দুই রাজ্যের কর্মীরা একসঙ্গে ১২০টিরও বেশি চেকপয়েন্টে মোতায়েন থাকবেন, যাতে বিএস–I, বিএস–II ও বিএস–III গাড়িগুলি রাজধানীতে ঢুকতে না পারে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বাড়তে পারে জিনিসপত্রের দাম
পরিবহণ ব্যবসায়ী রাজেন্দ্র কাপুর জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামে প্রভাব পড়তে পারে, যার অর্থ সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ! তাঁর মতে, সরকার যদি দূষণ নিয়ন্ত্রণের আরও কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করে, তা হলে শুধু গাড়ি নিষিদ্ধ করাই একমাত্র সমাধান নয়।
বায়ু মানে উন্নতি, তবে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে
শুক্রবার দিল্লির পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হয়েছে। আগের দিনের তুলনায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ৩৭৩ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ২১৮-এ। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টেয় রেকর্ড করা এই পরিসংখ্যান ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘খারাপ’ হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও জোরালো হাওয়ার কারণে দূষণের মাত্রা কমেছে।