লখনউয়ের ডালিগঞ্জে বড় হওয়া শাহিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় উজ্জ্বল। এলাহাবাদ থেকে এমবিবিএস, পরে ফার্মাকোলজিতে বিশেষজ্ঞ। পরিবারের সবাই শিক্ষিত, সমাজে সম্মানিত। বাবা সরকারি কর্মচারী - সব মিলিয়ে অভিজাত, স্থির পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা।

শাহিন সাইদ এবং মুজাম্মিল শাকিল
শেষ আপডেট: 29 November 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার (Delhi Red Fort) কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে (Car Blast) যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম নাম শাহিন সাইদ (Shaheen Saeed)। বয়স ৪৬। পেশায় ডাক্তার (Doctor)। কিন্তু তাঁর এমন পরিবর্তন হল কী করে?
তদন্তকারীদের দাবি, জীবনের ব্যক্তিগত টানাপড়েন, দুই বিয়ে ভাঙা (Broken Marriage) এবং তৃতীয় প্রেমের (Love Relationship) সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে তিনি জড়িয়ে পড়েছিলেন জঙ্গি সংগঠনের ছায়ায়।
লখনউ থেকে দিল্লি: এক মেধাবী ছাত্রীর যাত্রা
লখনউয়ের (Lucknow) ডালিগঞ্জে বড় হওয়া শাহিন ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় উজ্জ্বল। এলাহাবাদ থেকে এমবিবিএস, পরে ফার্মাকোলজিতে বিশেষজ্ঞ। পরিবারের সবাই শিক্ষিত, সমাজে সম্মানিত। বাবা সরকারি কর্মচারী - সব মিলিয়ে অভিজাত, স্থির পরিবেশেই বড় হয়ে ওঠা।
দীর্ঘ বৈবাহিক জীবন, পেশাগত চাপ আর প্রথম ভাঙন
২০০৩ সালে চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ (Eye Specialist) জাফর হায়াতের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। দুই সন্তানের জন্ম। কিন্তু প্রায় এক দশক পর সম্পর্ক ভাঙে। বিদেশে বসবাসের ইচ্ছে, পেশাগত টেনশন এবং মানসিক অশান্তির জেরে বিচ্ছেদ, এটাই পরিবার ও বন্ধুমহলের বক্তব্য। বিচ্ছেদের পর হঠাৎ কলেজে যাওয়া বন্ধ করেন শাহিন। দীর্ঘ আট বছর যোগাযোগহীন অবস্থায় কাটান। পরে চাকরিও চলে যায়।
দ্বিতীয় বিয়েও টেকেনি
গাজিয়াবাদের (Gaziabad) এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সেটাও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। আরও একবার ভেঙে যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন। তবে এরপরই জীবন অন্য মোড় নেয়। তৃতীয় একটি সম্পর্কে জড়ান শাহিন (Shaheen Saeed)।
আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মী মুজাম্মিল
জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০২৩-এ। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে (Al Falah University) পড়ানোর সময় পরিচয় হয় কাশ্মীরি তরুণ চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের (Muzammil Shakeel) সঙ্গে। প্রতিদিনের দেখা, একসঙ্গে কাজ, একই বিষয়ে পড়াশোনা - সব মিলিয়ে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তাদের। পরে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের এক মসজিদে তাঁদের বিয়ে হয়।
ধর্মীয় চক্র, ছাত্রগোষ্ঠী এবং জইশের নারী শাখার হাতছানি
তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের পর শাহিন নিয়মিত ধর্মীয় সভা, ছাত্রদের বৈঠকে যেতে থাকেন। সেখানেই তাঁর যোগাযোগ হয় জামাত-উল-মুমিনাত–এর সদস্য, জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা, যেটির নেতৃত্বে পাকিস্তানের জইশ প্রধান মসুদ আজহারের বোন সাদিয়া আজহার। ধীরে ধীরে তাঁকে জঙ্গি মতাদর্শে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় (Delhi Blast) এখন পর্যন্ত চার মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেছে সংস্থা - পুলওয়ামার ডা মুজাম্মিল শাকিল গণাই, অনন্তনাগের ডা আদিল আহমেদ রাঠার, লখনউ–এর ডা শাহিন সাইদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান ওয়াগায়। তদন্তকারীরা বলছেন, শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে গড়ে ওঠা এই দলটি ছিল এক ধরনের - হোয়াইট কলার টেরর নেটওয়ার্ক (White Collar Terror Network)।