ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে। একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের মোটরবাইককে পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যান দু'জনেই।

স্বামীকে শেষ বিদায় জানালেন স্ত্রী
শেষ আপডেট: 16 September 2025 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেলে বাইকে চেপে বেরিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওলটপালট হয়ে যাবে তাঁদের গোটা পৃথিবী। স্বামীকে হারিয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী আহত স্ত্রী, এই ছবিই চোখের সামনে এঁকে দিল দিল্লির এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
৫২ বছর বয়সি নভজ্যোত সিং (BMW Victim Navjot Singh), কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের ডেপুটি সেক্রেটারি, ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী সন্দীপ কৌর, যিনি পেশায় শিক্ষক, গুরুতর জখম হয়ে এখন হাসপাতালে ভর্তি।
ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার, দিল্লি ক্যান্টনমেন্ট মেট্রো স্টেশনের কাছে। একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের মোটরবাইককে পিছন দিক থেকে ধাক্কা মারে। বাইক থেকে ছিটকে পড়ে যান দু'জনেই। তীব্র আঘাতে নভজ্যোতের মাথা ও মুখে গুরুতর চোট লাগে আর সন্দীপের শরীরেও একাধিক জায়গায় আঘাত ধরা পড়েছে।
দুর্ঘটনার আগে ওই দিন সকালে দম্পতি প্রথমে যান কেন্দ্রীয় দিল্লির বাংলা সাহিব গুরুদ্বারায়। সেখান থেকে দুপুরের খাওয়া সারেন কর্নাটক ভবনে। এরপর তাঁরা ফিরছিলেন প্রতাপ নগরের বাড়িতে। ফেরার পথেই ঘটে যায় এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা।
গাড়িটি চালাচ্ছিলেন গগনপ্রীত, তাঁর পাশে ছিলেন স্বামী পরিক্ষিত। দুর্ঘটনার পর গগনপ্রীতই আহত দম্পতিকে নিয়ে যান জিটিবি নগর-এর একটি হাসপাতালে, যা ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে। সেখানে পৌঁছতে তাঁদের প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। চিকিৎসকরা নভজ্যোতকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সন্দীপকে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
গগনপ্রীত ও পরিক্ষিতের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দায়ের হয়েছে একাধিক মামলা, অবহেলার কারণে খুন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং প্রমাণ লুকোনোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গগনপ্রীতকে গ্রেফতার করে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
তবে কেন এত দূরের হাসপাতালে আহতদের নিয়ে যাওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জিটিবি নগরের হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হয়েছিল, সেটির সহ-মালিক নাকি গগনপ্রীতের বাবা। ফলে নিহতের পরিবার অভিযোগ তুলেছে, গোটা ঘটনাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মৃতের স্ত্রী সন্দীপ কৌর। তাঁর কথায়, “আমি বারবার অনুরোধ করছিলাম আমাদের কাছের হাসপাতালে নিয়ে যেতে। আমার স্বামী তখন অচেতন অবস্থায় ছিলেন, তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমার অনুরোধ সত্ত্বেও তিনি আমাদের অনেক দূরের ছোট একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।”
দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পর শেষবারের মতো স্বামীর মুখ ছুঁয়ে বিদায় দেন সন্দীপ। একইসঙ্গে দুই স্ট্রেচারে শোয়া- একজন প্রাণহীন, অন্যজন ভেঙেচুরে যাওয়া শরীর নিয়ে, পরিজনেরা কান্না সামলাতে পারেননি। স্বামী-সহচর ও সেরা বন্ধুকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সন্দীপ।