Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

অনন্তনাগে শুরু, পরিণতি লালকেল্লায়! দেশের বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফাঁসের নেপথ্যে সাধারণ এক পোস্টার

সেই পোস্টার প্রথমে তেমন গুরুত্ব না পেলেও, তদন্ত শুরু হয়েছিল নিয়ম মেনে। কিন্তু পরের সপ্তাহেই সেই ছবিটা পাল্টে যায় (Anantanag poster to Delhi blast)।

অনন্তনাগে শুরু, পরিণতি লালকেল্লায়! দেশের বড় জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফাঁসের নেপথ্যে সাধারণ এক পোস্টার

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 12 November 2025 18:57

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) ছড়িয়ে পড়া নেহাতই সাধারণ কিন্তু কিছু আপত্তিজনক পোস্টার (poster) - আর তা থেকে যে নভেম্বরেই এত বড় একটা যোগসাজশ সামনে আসবে, তা কিছুদিন আগে পর্যন্তও টের পাওয়া যায়নি। অক্টোবরের মাঝামাঝি একটা অভিযোগ (FIR) আসে, সেই শুরুটাও ছিল একদম সাধারণ। কিন্তু মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই সেই ঘটনাই তুলে ধরল দেশের সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের (India’s Major terror network Crackdown পর্দাফাঁসের গল্প।

ঘটনা শুরু ১৯ অক্টোবর, জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগ (Anantanag) জেলার নওগাম এলাকায়। সেখানে জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সমর্থনে লেখা কয়েকটি উস্কানিমূলক পোস্টার (objectionable poster) উদ্ধার করে পুলিশ। বিষয়টিকে প্রথমে তেমন গুরুত্ব না দিলেও, তদন্ত শুরু হয়েছিল নিয়ম মেনে। কিন্তু পরের সপ্তাহেই সেই ছবিটা পাল্টে যায়।

পোস্টার থেকে ধরা পড়ল জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছায়া

প্রথমেই পুলিশ গ্রেফতার করে শোপিয়ানের মৌলবী ইরফান আহমদ ওয়াগে ও গান্ডেরবালের জামির আহমদকে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই উঠে আসে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা কাশ্মীরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এক গভীর জঙ্গি নেটওয়ার্কের দিকে ইঙ্গিত দেয়। তদন্ত ক্রমে সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে যায় কাশ্মীরের বাইরে।

ফরিদাবাদের মেডিক্যাল কলেজেই মিলল সূত্র

৩০ অক্টোবর, ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজের এক ফ্যাকাল্টি সদস্য ড. মুজাম্মিল শাকিলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই গ্রেফতারই তদন্তে বড় মোড় আনে। তাঁর সূত্রেই মেলে অস্ত্র উদ্ধার ও কয়েকটি গোপন নেটওয়ার্কের সংযোগ। এরপর তদন্তের তৎপরতা বাড়ায় একাধিক রাজ্যের পুলিশ।

৬ নভেম্বর, উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুরের এক হাসপাতাল থেকে ধরা পড়েন ডাঃ আদিল রাথার। পরদিন, অর্থাৎ ৭ নভেম্বর, অনন্তনাগের একটি হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয় একটি AK-56 রাইফেল ও প্রচুর গুলি।

ডাঃ আদিলের নাম আগেও উঠে এসেছিল শ্রীনগরে JeM-এর পোস্টার টাঙানোর ঘটনায়। ফলে তদন্তকারীদের কাছে তাঁর ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ আরও ঘন হয়।

ডাক্তারদের জড়িত থাকা ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউল

৭ নভেম্বরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়, গোটা চক্রটি চালাচ্ছিল একদল মেডিক্যাল প্রফেশনাল ও স্লিপার সেল। তদন্তকারীরা এটিকে নাম দেন 'হোয়াইট কলার টেরর মডিউল', কারণ এতে যুক্ত ছিলেন একাধিক ডাক্তার - এমনকী লখনউয়ের এক মহিলা চিকিৎসক শাহিন-ও।

মুজাম্মিলের বাড়ি থেকে মেলে বিস্ফোরক, উধাও উমর

৮ নভেম্বর, নিরাপত্তা বাহিনী আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। পরদিন, অর্থাৎ ৯ নভেম্বর, মেওয়াট ও ফরিদাবাদে ধারাবাহিক তল্লাশিতে উদ্ধার হয় মোট ২,৫৬৩ কেজি বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির উপকরণ - যা সাম্প্রতিক কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় জঙ্গি মজুত বলে মনে করা হচ্ছে।

শুধু ফরিদাবাদেই ৩৬০ কেজি বিস্ফোরক মেলে ডাঃ মুজাম্মিলের ভাড়া করা বাড়ি থেকে।

মুজাম্মিলকে গ্রেফতার করা গেলেও, তাঁর সহযোগী একজন পালিয়ে যায়। পরে জানা যায়, সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, ডাক্তার উমর উন নবি, বর্তমানে যিনি দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণের মূলচক্রী হিসেবে অভিযুক্ত।

বহু রাজ্যের যৌথ অভিযানে ভাঙল JeM ঘাঁটি

জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও দিল্লির বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত অভিযানে কার্যত ভেঙে দেওয়া হয় এই জইশ-ই-মোহাম্মদ-ঘনিষ্ঠ জঙ্গি মডিউল।

তদন্তকারীদের দাবি, এই একজোট অভিযান না হলে, দেশের বুকে আরও বড় হামলার সম্ভাবনা ছিল।


```