ফরিদাবাদ অভিযানে (Faridabad raid before Delhi blast) ওই তল্লাশির পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন উমর (Umar un Nabi)।

জম্মু ও কাশ্মীরের চিকিৎসক উমর উন-নবি
শেষ আপডেট: 12 November 2025 12:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার কাছে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের পর যে নামটি এখন তদন্তের কেন্দ্রে, উমর উন-নবি (Umar un Nabi Delhi blast suspect), তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের ৩৫ বছর বয়সি চিকিৎসক (JK doctor suspected for Delhi blast)। পরিবারের চোখে তিনি ছিলেন 'শান্ত, পরিশ্রমী, পড়াশোনায় মনোযোগী' - কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে।
রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের (Red fort blast) তদন্ত যত এগোচ্ছে, উমর নবিকে ঘিরে ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরিদাবাদ অভিযানের (Faridabad raid before Delhi blast) সঙ্গেই নাকি জড়িয়ে ছিলেন উমর। শুধু তাই নয়, সেখানে ওই তল্লাশির পর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন উমর, এমনটাই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, অভিযানের পর তিনি প্রমাণ নষ্ট বা সরিয়ে ফেলার চেষ্টাও করেন।
যখন ফরিদাবাদ ও জম্মু-কাশ্মীরে তাঁর সহযোগীদের একে একে গ্রেফতার করা হচ্ছিল, তখন উমর পালিয়ে যান। পুলিশ সূত্রের মতে, “দিল্লি-এনসিআর ও পুলওয়ামায় নিরাপত্তা সংস্থার অভিযান এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় চাপে পড়ে উমর তাড়াহুড়ো করে কাজ করেন।”
অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট নিয়ে দিল্লি পাড়ি
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই আতঙ্কিত ছিলেন উমর। তিনি পাঁচটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতেন, যা ৩০ অক্টোবরের পর সবই বন্ধ হয়ে যায়। নভেম্বর ৯ তারিখের ফরিদাবাদ অভিযানের পর থেকে তিনি নিখোঁজ।
অভিযানে প্রায় ২,৯০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট, ডেটোনেটর, টাইমার ও রাইফেল উদ্ধার হয়। এক সিনিয়র অফিসার বলেন, “ও জানত যে জাল ক্রমশ টানটান হয়ে আসছে। উদ্ধার অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই উমর দিল্লি পালায়, সঙ্গে নিয়ে যায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ফুয়েল অয়েল ও ডেটোনেটর।”
‘অসম্পূর্ণ বোমা’, আতঙ্কেই বিস্ফোরণ
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সিকিউরিটি সংস্থার অভিযান ও গ্রেফতারের চাপেই উমর চরম আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির মধ্যে কাজ করছিলেন। ওই তাড়াহুরোতেই বোমাটি 'প্রিম্যাচিউর' অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়। তা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হতে পারত।
ফারিদাবাদের সাম্প্রতিক তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া প্রায় ৩ হাজার কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট-এর সঙ্গেও তাঁর যোগ পাওয়া যাচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার নেতৃত্বে হওয়া সেই অভিযানে ধরা পড়েছিল সাতজন, যাদের মধ্যে দু’জন চিকিৎসকও ছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে, এঁরা সকলে মিলে চালাচ্ছিলেন এক 'হোয়াইট-কলার টেরর নেটওয়ার্ক'।
উমরের সরাসরি যোগাযোগ ছিল ফরিদাবাদে ধরা পড়া দুই চিকিৎসক - আদিল আহমেদ রাথার এবং মুজাম্মিল শেখিল গণাই-এর সঙ্গে। আদিল ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র রেসিডেন্ট, যেখানে উমরও কিছুদিন কাজ করেছিলেন।
পরে জানা যায়, আদিলের সম্পর্ক ছিল জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH)-এর সঙ্গে। ফরিদাবাদের সেই জায়গাতেই তারা বিস্ফোরক মজুত করছিল বলে সন্দেহ।
অন্যদিকে, মুজাম্মিল ও উমর দু’জনেই জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার বাসিন্দা। তারা একসঙ্গে ফারিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এ কাজ করতেন।
দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সূত্রে জানা গেছে, “অনন্তনাগে উমর সিনিয়র রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করার সময়ই ডাঃ আদিলের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরে ফারিদাবাদে এসে ডা; মুজাম্মিলের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তিনজন মিলে পুলওয়ামা থেকে এনসিআর পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা এক জঙ্গি লজিস্টিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন, যা JeM-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।”
সোমবার লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে যে Hyundai i20 গাড়িটির বিস্ফোরণ অন্তত ১৩ জনের প্রাণ কেড়েছে, সেই গাড়ির চালক হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছেন উমর। বিস্ফোরণে আহত হন আরও অনেকে।