
ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর উর্জিত প্যাটেল।
শেষ আপডেট: 29 August 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর উর্জিত প্যাটেল আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারে পরবর্তী এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে নিযুক্ত হলেন। ওয়াশিংটনস্থিত আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বা অর্থ তহবিল হল বিশ্বজুড়ে আর্থিক লেনদেন ও ঋণদানকারী সর্বোচ্চ সংস্থা। শুক্রবার ভারত সরকার উর্জিত প্যাটেলের নাম ঘোষণা করেছে। তিনি ওই পদে তিন বছর কাজ করবেন।
২০১৬ সালে উর্জিত প্যাটেল রঘুরাম রাজনের কাছ থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। কিন্তু, আচমকাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আরবিআই গভর্নর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সরে দাঁড়ান। উল্লেখ্য, তার আগে বেশ কিছুদিন ধরে উর্জিত প্যাটেলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারের বাগযুদ্ধ চলে। যা মিডিয়ার চোখের সামনেই ঘটায় কারও নজর এড়াতে পারেনি।
অর্থনীতিবিদ ও প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর প্যাটেলকে আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের পরবর্তী এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মোদী নেতৃত্বাধীন এ সংক্রান্ত ক্যাবিনেট কমিটি। উর্জিত প্যাটেল হলেন এমন একজন প্রাক্তন আরবিআই গভর্নর, যিনি ১৯৯০ সালের পর প্রথম কেউ যিনি মেয়াদ সম্পূর্ণ আগেই পদত্যাগ করেন।
উর্জিত প্যাটেল অবশ্য এর আগেও আইএমএফে কাজ করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে মোদী সরকার। আরবিআইয়ের ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন তিনি ডেপুটেশনে বেশ কিছুদিন ছিলেন। সেই সময় ঋণ বাজার, ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে সংস্কার, পেনশন ফান্ড সংস্কার এবং বিদেশি মুদ্রা বাজারের বিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও সুপারিশ কাজে এসেছিল।
প্যাটেল দেশের অর্থমন্ত্রকের পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন ১৯৯৮-২০০১ সালে। আরবিআই গভর্নর পদ থেকে ইস্তফার প্রায় সাত বছর পর তিনি ফের স্বমহিমায় মোদী সরকারেরই কাজে লাগতে চলেছেন। বর্তমানে প্যাটেল ব্রিটানিয়া ইন্ডাস্ট্রিজের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরদের একজন হিসেবে কর্মরত। উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল থেকে আইএমএফ ইডি পদটি শূন্য পড়ে রয়েছে। একটি বিতর্কিত বই ও প্রটোকল ভঙ্গের দায়ে এর আগের ইডি কৃষ্ণমূর্তি সুব্রহ্মণ্যমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ তাঁর ‘উই অলসো মেক পলিসি’ নামের বইতে দাবি করেন, মোদী একবার উর্জিত প্যাটেল সম্বন্ধে বলেছিলেন, টাকার বসে থাকা এক সাপ। যদিও পরে প্যাটেল নোটবন্দি নিয়ে গঠিত সংসদীয় দলের সামনে বলেছিলেন, নোটবন্দি প্রক্রিয়ার আগে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছিল। কেননা, তার আগে অনেকেই অনুমান করেছিলেন, আরবিআই গভর্নরকে অন্ধকারে রেখেই মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ২০১৬ সালের ওই ঘটনার সপক্ষেই মত দিয়েছিলেন উর্জিত প্যাটেল।