এলিতেলি কোনও সমীক্ষা নয়, খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন সাম্প্রতিক ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (UDISE+) এই তথ্য প্রকাশ করেছে বৃহস্পতিবার।

এর মূলে ব্যাপকভাবে রয়েছে জন্মহার কমে যাওয়া।
শেষ আপডেট: 29 August 2025 12:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩-১১ বছরের শিশুদের স্কুলের নাম লেখানোর সংখ্যা প্রায় ২৫ লক্ষ কমে গিয়েছে। এই চিত্র গোটা ভারতের। এবং এর মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি, প্রাক-বিদ্যালয় এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির পরিসংখ্যান মিলিয়ে ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষেই প্রায় ২৫ লক্ষ পড়ুয়া কমে যাওয়ার হিসাব রয়েছে। এলিতেলি কোনও সমীক্ষা নয়, খোদ কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন সাম্প্রতিক ইউনিফায়েড ডিস্ট্রিক্ট ইনফর্মেশন সিস্টেম ফর এডুকেশন প্লাস (UDISE+) এই তথ্য প্রকাশ করেছে বৃহস্পতিবার।
২০২৩-২৪ সালের ওই রিপোর্টে ছিল, একেবারে বুনিয়াদি ও প্রাক স্কুল প্রস্তুতিপর্বে ১২.০৯ কোটি পড়ুয়ার খাতায় নাম উঠেছিল। যা চলতি বছরে কমে প্রায় ১১.৮৪ কোটিতে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ আনুমানিক ২৪.৯৩ লক্ষ শিশু শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশই করেনি। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত ভর্তির সংখ্যা ১১ লক্ষ কমেছে। ২৪.৮ কোটি (২৩-২৪ সাল) থেকে ২৪.৬৯ কোটিতে (২৪-২৫) নেমেছে। ২০১৮-১৯ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ পতন বলে জানিয়েছে রিপোর্ট। এর মধ্যে সরকারি, সরকার-পোষিত, বেসরকারি ও অন্যান্য স্কুল রয়েছে।
ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে শিক্ষামন্ত্রকের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, এর মূলে ব্যাপকভাবে রয়েছে জন্মহার কমে যাওয়া। তিনি মনে করেন, দেশজুড়ে প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হওয়ার শিশুর জন্ম সংখ্যার হার কমে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও মেঘালয় ছাড়া প্রত্যেক রাজ্যেই জন্মহার নেমে গিয়েছে। ফলে স্কুলে ভর্তির খাতায় নাম লেখানোর মতো শিশুর জন্মও কম হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
এই সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, দেশে এখন শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদিও প্রায় ১.০৪ লক্ষ বিদ্যালয় চলে মাত্র ১ জন করে শিক্ষক দিয়ে। এবং দেশে ৮০০০ স্কুল রয়েছে, যেখানে কোনও পড়ুয়াই নেই। এর মধ্যে শিক্ষিকার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩-২৫ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষকের সংখ্যা ছিল ৯.৮৮৩ মিলিয়ন। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ হলেন সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক। শিক্ষকের সংখ্যা ২০১৪-১৫ সালে ছিল ৪.৫৪৬ মিলিয়ন এবং মহিলা ৪.০১৬ মিলিয়ন। ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪.৬৪১ ও ৫.৪৮১ যথাক্রমে।
মন্ত্রকের হিসাবে আগে ১৫ জন পড়ুয়াপ্রতি একজন করে শিক্ষক ছিলেন। চলতি বছরে তার উন্নতি হয়ে হয়েছে ১০ জন ছাত্রপ্রতি একজন শিক্ষক। প্রিপারেটরি স্তরে আগে ১৮ জনের জন্য একজন। এখন ১৩ শিশুর জন্য একজন করে শিক্ষিকা রয়েছেন। জুনিয়র হাই বা আপার প্রাইমারিতে আগে ২৬ জন প্রতি একজন শিক্ষিক এবং বর্তমানে ১৭ জন প্রতি একজন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিকস্তরের স্কুলে আগে ছিলেন ৩১ জন প্রতি একজন, এখন ২১ জন প্রতি একজন শিক্ষক।