জাপানি আদবকায়দায় নয়। এক্কেবারে অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা পেলেন মোদী ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুদেশে। বিদেশের মাটিতেও দেশের অনুভূতির উষ্ণ ছোঁয়ায় স্বাগত জানাল হল মোদীকে।

পাধারো আমহারে দেস।
শেষ আপডেট: 29 August 2025 11:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘জাপানি গুড়িয়া’রা শুক্রবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানাল নিজের দেশে। কোনও জাপানি আদবকায়দায় নয়। এক্কেবারে অভূতপূর্ব অভ্যর্থনা পেলেন মোদী ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুদেশে। বিদেশের মাটিতেও দেশের অনুভূতির উষ্ণ ছোঁয়ায় স্বাগত জানাল হল মোদীকে। জাপানের সাংস্কৃতিক শিল্পীদের একদল মহিলা মোদীকে অভ্যর্থনা জানাতে পরেছিলেন ঐতিহ্যগত রাজস্থানি পোশাক। রঙচঙে রাজস্থানি জামাকাপড়ে তাঁদেরও ভুবনবিখ্যাত জাপানি পুতুলের মতোই লাগছিল।
টোকিওতে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তাঁরা মোদীকে ভারতীয় কায়দায় হাত জোড় করে নমস্কারের ভঙ্গিতে স্বাগত জানান। এক মুখ হাসিতে তাঁরা বলেন, পাধারো আমহারে দেস। অর্থাৎ আমার দেশে আমাকে স্বাগতম। আসলে জাপানের সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতির অনেক কিছুর মিল আছে। যার মূলে রয়েছে বৌদ্ধ ধর্ম। বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাবেই জাপানিদের মধ্যে মাথা ঝুঁকিয়ে কোমর নিচু করে হাত জোড় করে নমস্কারের প্রথা প্রচলিত আছে।
স্বাগত জানাতে আসা মহিলাদের একজন মোদীকে হৃদয় নাড়া দেওয়া সেই যুগোত্তীর্ণ লোকসঙ্গীত গেয়ে ওঠেন। ভারি জাভু রে। যা শুনে মোদী খুশিতে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন। কারণ তিনি ভাবেননি সূর্যোদয়ের দেশে দেশোয়ালি সুরে কোনও বিদেশিনী তাঁকে গান শোনাতে পারেন। জাপানি মহিলাদের আরেকটি দল ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য যেমন- মোহিনীআট্যম, কত্থক, ভরতনাট্যম ও ওড়িশি নাচ দেখান। সেই সঙ্গে বাতাসে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে তার সুর-মৃদঙ্গের তাল।
মোদী অনুষ্ঠান শেষে শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রম এবং ভারতীয় শিল্পের প্রতি ভালবাসার প্রশংসা করেন। জাপানের এক শিল্পী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর সামনে তাঁর দেশেরই নৃত্যকলা দেখাতে পেরে আমরা খুব খুশি। আমি ২৫ বছর ধরে মোহিনীআট্যম নাচি। এটা দক্ষিণ ভারতীয় নাচ। একা প্রদর্শনের নাচ হলেও আমরা সম্মিলিত প্রদর্শন করেছি। আরেক জন শিল্পী বলেন, আমি কত্থক নেচেছি। তাঁর মতে, মোদীর সামনে নাচতে পারাটা জীবনের একটা স্বর্ণপদক জেতার মতো আনন্দ।