বাহরাইচ পুলিশের এক আধিকারিক রমনন্দ প্রসাদ কুশওয়া জানিয়েছেন, গ্রামের এক আমবাগানের ধারে একটি পরিত্যক্ত টিউবওয়েল থেকে শাদাবের দেহ উদ্ধার হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 28 June 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘লাইক’ পাওয়ার নেশা কতটা বিপজ্জনক হতে পারে? উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার ঘটনা তা অনায়াসে বলে দিতে পারে। মাত্র ১৪ ও ১৬ বছর বয়সি দুই কিশোর আইফোনের জন্য নির্মমভাবে খুন করল ১৯ বছরের এক যুবককে। উদ্দেশ্য, ভাল কোয়ালিটির রিল বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়া।
খুনের ঘটনাটি হয়েছে ২০ জুন। নিহত যুবকের নাম শাদাব, বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। মামার বিয়েতে যোগ দিতে এসেছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার নাগওর গ্রামে। কিন্তু আসার পরদিনই নিখোঁজ হয়ে যান। রাতে দেহ উদ্ধার হয় গ্রামের বাইরে একটি পরিত্যক্ত টিউবওয়েলের পাশে। গলার নলি কাটা ছিল। মাথায় ছিল ইটের আঘাতের গভীর ক্ষত।
বাহরাইচ পুলিশের এক আধিকারিক রমনন্দ প্রসাদ কুশওয়া জানিয়েছেন, গ্রামের এক আমবাগানের ধারে একটি পরিত্যক্ত টিউবওয়েল থেকে শাদাবের দেহ উদ্ধার হয়। গলা কাটা ছিল ছুরি দিয়ে, মাথায় ইট মারা হয়েছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশ ১৪ ও ১৬ বছর বয়সি দুই কিশোরকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা খুনের কথা স্বীকার করে নেয়।
পুলিশের দাবি, তারা আগেই চার দিন ধরে এই খুনের পরিকল্পনা করছিল। তাদের প্রয়োজন ছিল একটি আইফোন, যাতে উন্নতমানের ভিডিও বানানো যায়। সেই উদ্দেশ্যে শাদাবকে খুন করা হয়।
কীভাবে হল খুন?
ঘটনার দিন ওই দুই নাবালক শাদাবকে ভিডিও বানানোর নাম করে গ্রামের বাইরের নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানেই আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়। ছুরি দিয়ে গলা কেটে দেয় এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুনের পর তারা আইফোনটি নিয়ে পালিয়ে যায় এবং আত্মগোপন করে। পরে পুলিশ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করে। উদ্ধার হয় আইফোন, খুনে ব্যবহৃত ছুরি ও ইট। এই ঘটনায় মোট চার জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৩(১) (খুন) ও ২৩৮ (প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা)-এর অধীনে মামলা দায়ের হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া নাবালকদের এক আত্মীয়কেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে, যিনি ছুরি লুকোতে সাহায্য করেছিলেন বলে অভিযোগ। চতুর্থ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
ধৃত দুই নাবালককে গোঁড়া জেলার বিভাগীয় কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই নির্মম ঘটনায় হতবাক স্থানীয়রা। নাবালকদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা’ অর্জনের জন্য যে এই ধরনের হিংসাত্মক মানসিকতা গড়ে উঠছে, তা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে সর্বত্র।