তিস্তা সংলগ্ন বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার কথা ভেবেছে প্রশাসন। তাদের ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 31 May 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টি এবং তার সঙ্গে ধস। তিস্তার জল ছাপিয়ে গেছে বিপদসীমা। শুক্রবার রাত থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে সিকিমের (Sikkim)। বিশেষ করে রাজ্যের উত্তর অংশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেই পরিপ্রেক্ষিতে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, পর্যটকদেরও সতর্ক করেছে রাজ্য প্রশাসন। শুধুমাত্র সিকিম নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্য (North-East States) এই আবহাওয়ার কারণে বিপর্যস্ত।
গত বৃহস্পতিবার বাংলায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে তাঁর সিকিমেও যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার (Bad Weather) কারণে সেই সফর বাতিল করতে হয়। অর্থাৎ সেইদিন থেকেই পরিস্থিতি বেগতিক হচ্ছিল বাঙালির অন্যতম প্রিয় পর্যটন কেন্দ্রের। শনিবার উত্তর সিকিমের বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে এবং তার জেরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, সিকিমের সাত মাইলের মধ্যে নামচি জেলার লেগশিপ ও কিউজিংয়ের মাঝে ধস নেমেছে। মঙ্গন জেলাতেও লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
তিস্তা সংলগ্ন বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার কথা ভেবেছে প্রশাসন। তাদের ওই অঞ্চল থেকে সরিয়ে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে ডিকচু, সিংথামের মতো এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। প্রচু মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এরই মধ্যে উত্তর সিকিমের চুংথাং থেকে মুন্সিথাং যাওয়ার রাস্তায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি গাড়ি। ১১ জন পর্যটক নিয়ে গাড়ি প্রায় হাজার ফুট নীচে তিস্তায় পড়ে যায়।
উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্য যেমন মিজোরাম, অসম, ত্রিপুরা, মণিপুরে প্রবল বৃষ্টির জেরে ধসের কবলে পড়েছে বহু এলাকা। ধসের সঙ্গে বহু জায়গা বন্যার কবলে। সব মিলিয়ে কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে সূত্রের খবর। ইতিমধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। আইএমডি জানিয়েছে, এটাই শেষ নয়। আগামী কয়েকদিনে এর থেকেও খারাপ আবহাওয়া দেখা যাবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।