পরিবেশ ও আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি ২০১৮-এর কেরলের দিকে এগচ্ছে। সে বছর কেরলে শতাব্দির ভয়াবহ বন্যায় গোটা রাজ্যের বিপুল ক্ষতির পাশাপাশি হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। সেখানে কর্নাটকে এখনও সরকারিভাবে বর্ষা প্রবেশ করেনি। অকাল বৃষ্টিতে গোটা রাজ্য ডুবে আছে।

অতিবৃষ্টির সঙ্গে ভূমিধস
শেষ আপডেট: 31 May 2025 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অতিবৃষ্টিতে (excessive rain) কর্নাটকের (Karnataka) ৩১ জেলাতেই জনজীবন বিপর্যস্ত (normal life disturbed)। কোথাও বন্যা (flood), তো কোথাও জমা জলে (stagnant water) জনজীবন অতীষ্ট। নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে ভূমিধস। দক্ষিণ কর্নাটকের মেঙ্গালুরুর (Mengaluru) পাহাড়ি এলাকায় একাধিক জায়গায় ধসের ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত। মেঙ্গালুরুর উল্লালে (Ullal block) ধসের বলি হয়েছেন আটজন। এছাড়া ৬৭ জনের প্রাণ গিয়েছে বন্যা ও জমাজলে। শুধু রাজধানী বেঙ্গালুরুতেই জমা জলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হলে পাঁচজন মারা গিয়েছে।
পরিবেশ ও আবহাওয়াবিদেরা মনে করছেন, পরিস্থিতি ২০১৮-এর কেরলের দিকে এগচ্ছে। সে বছর কেরলে শতাব্দির ভয়াবহ বন্যায় গোটা রাজ্যের বিপুল ক্ষতির পাশাপাশি হাজারের বেশি মানুষ মারা যান। সেখানে কর্নাটকে এখনও সরকারিভাবে বর্ষা প্রবেশ করেনি। অকাল বৃষ্টিতে গোটা রাজ্য ডুবে আছে।

মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah, Chief Minister of Karnataka) জানিয়েছেন, বর্ষা আসার আগেই রাজ্যে দেড়শো শতাংশের বেশি বৃষ্টি হয়ে গিয়েছে। এখনই কুড়ি লাখের কাছাকাছি মানুষ বিপন্ন। রাজ্য সরকারের আশঙ্কা ভয়াবহ বিপর্যয়ের দিকে এগচ্ছে রাজ্য। অনেকেই সরকারকে কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করেছেন দু বছর আগে বেঙ্গালুরুর পরিস্থিতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে। সেবার বৃষ্টির জল জমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যে স্বাভাবিক যানবাহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার বহু কোম্পানি অফিস চালু রাখতে নৌকা ভাড়া করেছিল। ফুড ডেলিভারি কোম্পানিগুলি পাকাপাকিভাবে নৌকা ও স্পিডবোট কিনেছে।
এবারের পরিস্থিতি নিয়ে কর্নাটকের কংগ্রেস সরকার এখনও কেন্দ্রের সহায়তা চায়নি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যের দুর্যোগ প্রতিরোধ দফতরের হাতে হাজার কোটি টাকা আছে। সেই টাকা থেকে নিহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ এবং ক্ষতিগ্রস্থ ঘরবাড়ি নির্মাণ/সংস্কার করে দেওয়া হবে।
কিন্তু প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতে এমন পরিস্থিতি কেন? সরকারি সুত্র বলছে, শুধু অতিবৃষ্টিই সমস্যার কারণ নয়। রাজ্যের নিকাশি খালগুলির কার্যত অস্তিত্ব নেই। সেচ দফতর জানিয়েছে, তারা ৪১ হাজার নিকাশি খাল দেখভাল করে। এগুলির ১৪ হাজারই জবরদখল হয়ে গিয়েছে। মাটি ফেলে মানুষ ঘরবাড়ি বানিয়ে নিয়েছে।