প্রথমে গণপিটুনি। তারপর আধমরা মানুষগুলির উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দেওয়া। বিহারের পূর্ণিয়ায় এমনই এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

ছবি এআই দিয়ে তৈরি
শেষ আপডেট: 8 July 2025 09:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমে গণপিটুনি। তারপর আধমরা মানুষগুলির উপর পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে দেওয়া। বিহারের পূর্ণিয়ায় এমনই এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডাইনি চর্চা করার অভিযোগ তুলে এক পরিবারের পাঁচজনকে এই ভাবে হত্যা করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ণিয়ার তেতগামা গ্রামে। পূর্ণিয়া শহরের এসডিপিও পঙ্কজ কুমার শর্মা জানিয়েছেন, ‘এই হত্যার সঙ্গে ঝাঁড়-ফুক, ডাইনিবিদ্যা-এই সবের যোগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবার ঝাড়-ফুঁক করত বলে গ্রামবাসীদের একাংশ পুলিশকে জানিয়েছে। আধ পোড়া দেহগুলি পাশেই একটি জলাশয়ে ফেলে দিয়ে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল, জানিয়েছে পূর্ণিয়া পুলিশ।
নিহত পাঁচজনের মধ্যে বাবলু ওঁরাও নামে একজনের নাম জানা গিয়েছে। বাকি চারজন তাঁর পরিবারের সদস্য। পূর্ণিয়ার ডিআইজি প্রমোদকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, ঘটনাটি রবিবার গভীর রাতের। পুলিশ অনেক পরে ঘটনার কথা জানতে পারে। ডিআইজি জানান, ওই পরিবারের এক নাবালক হত্যাকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে দূরে লুকিয়ে ছিল। পরদিন বেলার দিকে গোপনে সে থানায় গিয়ে গোটা ঘটনা জানায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গণহত্যায় জড়িত বাকিদের গ্রেফতার করতে তদন্ত দল গঠন করছে পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হতে বহু পরিবার গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছে। মনে করা হচ্ছে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।
কেন এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে দিন কয়েক আগে গ্রামে বছর দশেকের এক নাবালক মারা যায়। তারপরই গ্রামে রটে যায় নাবালকের মৃত্যুর জন্য বাবুলাল ওঁরায়ের পরিবার জডিত। রবিবার গভীর রাতে ওঁরাও পরিবারের উপর চড়াও হয় গ্রামবাসীদের একাংশ।