আমদাবাদের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিমানে উঠতে অনেক যাত্রীই ভয় পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ড্রিমলাইনারেরই বিমানে এমন যান্ত্রিক গোলযোগ হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 June 2025 17:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহে আমদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর মঙ্গলবার ফের প্রবল চাপে এয়ার ইন্ডিয়া। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার মডেলের অন্তত পাঁচটি আন্তর্জাতিক বিমান এদিন একসঙ্গে বাতিল করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় ব্যবহৃত বিমানটিও ছিল এই মডেলেরই। আর তারপরই উঠছে নানা প্রশ্ন।
বাতিল হওয়া উড়ানগুলি হল, দিল্লি-দুবাই (AI 915), দিল্লি-ভিয়েনা (AI 153), দিল্লি-প্যারিস (AI 143), আমদাবাদ-লন্ডন (AI 159) এবং লন্ডন-অমৃতসর (AI 170)।
এছাড়া মঙ্গলবারই ফের সমস্যায় পড়ে দিল্লিগামী AI 315, যা হংকং থেকে উড়েছিল। মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় সেটিও ফিরে যায় হংকংয়ে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ একই দিনে লুফথানসা ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের দু'টি বোয়িং ড্রিমলাইনার, যা যথাক্রমে ফ্র্যাঙ্কফুর্ট-হায়দরাবাদ এবং লন্ডন-চেন্নাই রুটে চলছিল, তাও মাঝপথে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার একটি সান ফ্রান্সিসকো-মুম্বই ফ্লাইটও কলকাতায় নির্ধারিত বিরতিতে যান্ত্রিক গোলযোগে পড়ে এবং সমস্ত যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়।
আমদাবাদের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর বিমানে উঠতে অনেক যাত্রীই ভয় পাচ্ছেন। আতঙ্ক তাড়া করছে আমদাবাদ-সহ দেশের বহু মানুষকে। এই পরিস্থিতিতে ড্রিমলাইনারেরই বিমানে এমন যান্ত্রিক গোলযোগ হওয়ায় আতঙ্ক বাড়ছে।
এদিকে আমদাবাদের দুর্ঘটনায় বিমানটির ভয়েস ও ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (ব্ল্যাকবক্স) উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলছে। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক বিশ্লেষণ, দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমান থেকে ‘র্যাট’ (Ram Air Turbine) বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, যা সাধারণত তখনই ঘটে যখন দু'টি ইঞ্জিনই বিকল হয় বা বিমানের বৈদ্যুতিক-হাইড্রলিক সিস্টেম সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়।
বর্তমানে ডিজিসিএ (DGCA) সমস্ত বোয়িং ৭৮৭-৮ ও ৭৮৭-৯ মডেলের উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। বিশেষ করে যেগুলিতে GEnx ইঞ্জিন রয়েছে, সেগুলির টেক-অফ প্যারামিটার, ইঞ্জিন ফুয়েল সিস্টেম ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে বর্তমানে ৩৩টি বোয়িং ৭৮৭ রয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতদের প্রতি সম্মান জানাতে AI 171 নম্বরটি বন্ধ করেছে সংস্থা।