সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের (CBI) আবেদন শুনে শীর্ষ আদালত জানায়, আপাতত সেনগারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না।

কুলদীপ সিং সেঙ্গার
শেষ আপডেট: 29 December 2025 16:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাও গণধর্ষণ মামলায় (Unnao Rape Case) প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ সিং সেঙ্গারের (Kuldeep Singh Sengar) সাজা স্থগিতের নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার দিল্লি হাইকোর্টের ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের (CBI) আবেদন শুনে শীর্ষ আদালত জানায়, আপাতত সেনগারকে মুক্তি দেওয়া যাবে না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (CJI Surya Kant) নেতৃত্বে বিচারপতি জে কে মহেশ্বরী ও অগাস্টিন জর্জ মাসিহের তিন বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, সাধারণত দোষী সাব্যস্ত বা বিচারাধীন কোনও অভিযুক্তের মুক্তির নির্দেশ শুনানি ছাড়া স্থগিত করা হয় না। কিন্তু এই মামলার বিশেষ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, সেনগার এই মামলার পাশাপাশি নির্যাতিতার বাবার হেফাজতে মৃত্যুর মামলাতেও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত এবং সেই মামলায় জামিন পাননি।
ডিসেম্বরের ২৩ তারিখ দিল্লি হাইকোর্ট সেঙ্গারের যাবজ্জীবন সাজা স্থগিত করে শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করেছিল। যুক্তি ছিল, তিনি ইতিমধ্যেই সাড়ে সাত বছরের বেশি জেল খেটেছেন। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। সোমবারের শুনানিতে সেনগারকে নোটিস পাঠিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানিতে সিবিআইয়ের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মামলাটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরা নির্যাতিতার কাছে দায়বদ্ধ।” তিনি জানান, আইনে সংশোধনের পর এই ধরনের অপরাধে ন্যূনতম সাজা ২০ বছর। যদিও বেঞ্চ জানায়, সংশোধনীটি অপরাধ সংঘটনের পরে কার্যকর হয়েছে, ফলে তা এই মামলায় প্রযোজ্য নয়।
এ ছাড়াও দিল্লি হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, অপরাধের সময় সেনগার জনপ্রতিনিধি হলেও তাঁকে পকসো আইনের আওতায় সরকারি কর্মচারী হিসেবে ধরা যাবে না, এই বিষয়েও আপত্তি তোলে সিবিআই।
শুনানির সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিচারকদের ছবি ছড়িয়ে ‘এই বিচারকদের চিহ্নিত করুন’ ধরনের প্রচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত ‘আইভরি টাওয়ার’-এ বসে নেই, পরিস্থিতির রাজনৈতিক ব্যবহারের চেষ্টাও তারা বুঝতে পারছে। একই সঙ্গে মন্তব্য করেন, “সবচেয়ে দক্ষ বিচারকরাও ভুল করতে পারেন। বিচার ব্যবস্থায় পর্যালোচনা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।”
নির্যাতিতার আইনজীবী সেঙ্গারের আচরণ নিয়ে অভিযোগ তুললে প্রধান বিচারপতি কড়া ভাষায় বলেন, “ভুলে যাবেন না, সেনগারকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বিচার ব্যবস্থাই। আদালতকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেন না। যুক্তি আদালতের ভিতরেই দিতে হবে, বাইরে নয়।”