বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার হোসকোটে আর্থিক অনটন ও দাম্পত্য কলহের জেরে এক দম্পতি চরম সিদ্ধান্ত নেন। দুই সন্তানকে হত্যা করে স্বামী আত্মঘাতী হন, স্ত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 14 September 2025 12:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার হোসকোটে তালুকের গোনাকানাহল্লি গ্রামে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে ঘর থেকে। পাশে পড়ে রয়েছে তাঁর দুই সন্তানের নিথর দেহ। অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়েছেন স্ত্রী, তবে তাঁকেই আপাতত আটক করেছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শিভু (৩২)। স্ত্রী মঞ্জুলার সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হত তাঁর। কয়েক বছর আগে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে কাজকর্ম ছেড়ে বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকতেন। সংসারে আর্থিক সঙ্কট দিন দিন বাড়ছিল। তার সঙ্গে যোগ হয়েছিল শিভুর স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপ্রবণ মনোভাব।
তদন্তকারীদের দাবি, এই পরিস্থিতিতেই কয়েক মাস ধরে দম্পতি আত্মহত্যার কথা ভাবছিলেন। তবে সন্তানদের রেখে মরতে চাননি তাঁরা। তাই প্রথমে সন্তানদের শেষ করে, পরে নিজেরাও প্রাণ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার দিন দুপুরে দু’জনে একসঙ্গে মদ্যপান করেন। বিকেল চারটা নাগাদ প্রথমে ১১ বছরের মেয়ে চন্দ্রকলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়, পরে তার মাথা জলে ডুবিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এর পর সাত বছরের ছেলে উদয় সূর্যকেও একইভাবে খুন করা হয়।
ঘটনার পর মঞ্জুলা ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ শিভু বমি করতে থাকায় ওই সময় তাঁকে খাবার আনতে বলেন। মঞ্জুলা বাইরে থেকে ফিরে এসে দেখেন, স্বামী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এর পর মঞ্জুলা বাবার সঙ্গে শেষবার কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির ফোনটি শিভুর লক করা থাকায় তিনি প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়ে ফোন করেন। সেই সময় প্রতিবেশীকে গোটা ঘটনার কথা জানিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিবেশীরা স্থানীয়দের খবর দেন। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং মঞ্জুলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
অভিযোগ ও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মঞ্জুলাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।