এই ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে প্রিয়দর্শিনীর পরিবার। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

প্রিয়দর্শিনী ও তাঁর স্বামী
শেষ আপডেট: 1 September 2025 17:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাদুরাইয়ে পণের দাবির জেরে আত্মহত্যা (Dowry incident) করলেন এক নববধূ। অভিযোগ, বিয়েতে স্বামীর পরিবারকে ১৫০ ভরি সোনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরও ১৫০ ভরি সোনার দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি।
মৃতার নাম প্রিয়দর্শিনী, বয়স ২৮ বছর। পেরুমাল কোভিলপট্টির বাসিন্দা প্রিয়দর্শিনী গত বছর সেপ্টেম্বরে সেল্লুরের ৩০ বছরের রুবনরাজকে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় কনে-পক্ষ থেকে ১৫০ ভরি সোনা ‘উপহার’ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, বরের পরিবার আরও ১৫০ ভরি সোনা দাবি করে এবং না পাওয়ায় মেয়েটিকে মানসিক চাপে রাখে।
শ্বশুরবাড়িতে পরিস্থিতি এতটাই অসহ্য হয়ে উঠেছিল যে, কয়েক মাস আগে প্রিয়দর্শিনী বাবা অগ্নি ও মা সেলভির বাড়িতে ফিরে যান। এদিকে সম্প্রতি স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে রুবনরাজের দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতির খবর জানতে পারেন তিনি। এরপরই শুক্রবার তিনি বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে রাজাজি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে পারেননি।
এই ঘটনায় স্বামী রুবনরাজ ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে প্রিয়দর্শিনীর পরিবার। পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
সম্প্রতি পণের দাবি নিয়ে দেশের নানা প্রান্ত থেকে এত ঘটনা উঠে আসছে, তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে প্রশাসনিক মহল।
গত ১১ অগস্ট মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটে উত্তরপ্রদেশের অমরোহায়। বিয়ের পর থেকেই গালফিজার ওপর পণের দাবিতে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শ্বশুরবাড়ির তরফে ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি গাড়ির দাবি করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ঝামেলা চলার পর গত ১১ অগস্ট ঘটে এক মর্মান্তিক ঘটনা। শ্বশুরবাড়ির লোকরা তাঁকে জোর করে অ্যাসিড খাওয়ায়, এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে গালফিজার পরিবারের তরফে। উদ্ধার করে গুরুতর অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১৭ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়।
২৯ অগস্ট বেঙ্গালুরুতে ২৭ বছরের শিল্পা পঞ্চনগমথের রহস্যমৃত্যুতে স্বামীর বিরুদ্ধে পণের জন্য মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠে এসেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। খুন নাকি আত্মহত্যা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে স্বামীকে।
প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্রবীণের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাঁর স্বামী আইটি কর্মী ছিলেন, পরে সেই চাকরি ছেড়ে ফুচকা বিক্রির কাজ শুরু করেন তিনি। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পেরেছে, শিল্পার বিয়ের সময়ে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল। তার উপর ১৫০ গ্রাম সোনার গয়নাও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও পণের জন্য বারবার তাঁকে চাপ দেওয়া হত বলে দাবি পরিবারের।