প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তরুণীর বাবা ও কাকার দিকে।

হরিশ ও চন্দ্রিকা
শেষ আপডেট: 14 August 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের বানাসকাঁঠা জেলায় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এক তরুণী। কিন্তু বাড়ির আপত্তি ছিল প্রবল। শেষমেষ সেই প্রেমই হয়ে উঠল তাঁর মৃত্যুর কারণ। প্রেমিককে পাঠানো আতঙ্ক-ভরা শেষ মেসেজের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলল তাঁর দেহ। প্রথমে আত্মহত্যা বলে প্রচার করা হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে শ্বাসরোধ করে খুনের ঘটনা। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তরুণীর বাবা ও কাকার দিকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত তরুণীর নাম চন্দ্রিকা চৌধুরী (১৮)। তাঁর প্রেমিক হরিশ চৌধুরীর সঙ্গে সম্পর্ক মানতে নারাজ ছিলেন পরিবারের লোকজন। তাঁরা চাইছিলেন চন্দ্রিকার বিয়ে অন্যত্র দিতে। কিন্তু মেয়েটি সেই বিয়েতে রাজি ছিল না। তাঁকে পরিবারের লোকজন মেরে দিতে পারে, একথা আগেই প্রেমিককে জানিয়েছিলেন তিনি।
২৪ জুন গভীর রাতে ইনস্টাগ্রামে হরিশকে রাতে তরুণী বলেন, 'আমায় নিয়ে যাও, নয়তো বাড়ির লোক জোর করে বিয়ে দেবে। বিয়েতে রাজি না হলে মেরে ফেলবে। বাঁচাও আমাকে।' কয়েক ঘণ্টা পরই দান্তিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। প্রথমে আত্মহত্যার খবর ছড়ালেও, পরে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন হরিশ।
বানাসকাঁঠার সহকারী পুলিশ সুপার সুমন নালা জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায়, চন্দ্রিকার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। মৃত্যুর পর ডাক্তার দেখানো হয়নি, তড়িঘড়ি দাহ করে দেওয়া হয়। পরিবারের ঘনিষ্ঠ কাউকে খবর দেওয়া হয়নি, পালানপুরে পড়াশোনা করা ভাই পর্যন্ত কিছু জানতে পারেনি। এতে পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ঘটনার কয়েক দিন আগে হরিশের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন চন্দ্রিকা। তবে পরিবারের অভিযোগে পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করে এবং চন্দ্রিকাকে বাড়ি ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু ২৪ জুন রাতে যদি চন্দ্রিকা বিয়েতে রাজি না হন, তবে তাঁকে খুন করার ছক কষেছিলেন বাবা সেধাভাই প্যাটেল ও কাকা শিবাভাই প্যাটেল।
পুলিশের দাবি, তিন ধাপে সেই খুনের পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। প্রথমে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দেওয়া হয় চন্দ্রিকাকে, পরে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় এবং সবশেষে দেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যার খবর ছড়ানো হয়। রাতে যাঁরা দেহ দেখেছিলেন, তাঁরা ভেবেছিলেন আত্মহত্যা। কিন্তু সকালে পরিবার দাবি করে, এটি অস্বাভাবিক মৃত্যু।
প্রযুক্তিগত তথ্য, পরিস্থিতিগত প্রমাণ এবং বয়ান বিশ্লেষণ করে পুলিশ নিশ্চিত হয়, এটি একটি ‘পরিকল্পিত ও সাজানো খুন’। থানারদ থানায় খুনের মামলা দায়ের হয়। চন্দ্রিকার কাকা-সহ দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাবা এখনও পলাতক।