পুলিশ জানিয়েছে, সনিয়া মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রীতমের প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন, যা পরিবারের অমতে হলেও পরে তাঁরা মেনে নেন। দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে, ১৬ বছরের একটি ছেলে এবং দুই মেয়ে।
.jpeg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 3 August 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক ব্যক্তিকে খুন করে তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছিল হরিয়ানার সোনিপতের একটি নালায়। প্রায় এক বছর পর সেই খুনের কিনারা করল দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে মৃত ব্যক্তির স্ত্রী সনিয়া (৩৪) এবং তাঁর প্রেমিক রোহিত(২৮)-কে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আর এক ব্যক্তি, বিজয় এখনও পলাতক। তদন্তকারীদের দাবি, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং মৃতের অপরাধমূলক আচরণই এই খুনের মূল কারণ।
পুলিশ জানাচ্ছে, নিহত প্রীতম প্রকাশ (৪২) দিল্লির আলিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং তিনি একজন কুখ্যাত অপরাধী। অস্ত্র আইন, মাদক সংক্রান্ত আইন এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে ১০টিরও বেশি মামলা চলছিল। পলাতক ঘোষণাও করেছিল আদালত।
গত বছর ৫ জুলাই, সোনিপতের গন্নৌরে বোনের বাড়ি থেকে স্ত্রী সনিয়াকে আনতে গিয়েছিলেন প্রীতম। সেখানে গিয়ে ঝগড়া হয়। এরপরই সনিয়া তাঁর বোনের দেওর বিজয়কে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন স্বামীকে খুন করার জন্য। পরে, প্রীতম ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসলে সনিয়া তাঁকে থাকতে দেন।
সেই রাতেই সনিয়া ছাদে ঘুমিয়ে পড়লে, বিজয় প্রীতমকে খুন করে তাঁর দেহ ফেলে দেয় আগওয়ানপুর এলাকার একটি নালায়। পরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় মৃতদেহের ভিডিও পাঠায় সনিয়াকে, যদিও সেটি পরে ডিলিট করে দেয়। ২০ জুলাই, সনিয়া পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন, স্বামী বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। প্রথমে নিখোঁজের মামলার দৃষ্টিতেই তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রীতমের কোনও ব্যাঙ্কিং বা ডিজিটাল লেনদেন গত কয়েক সপ্তাহে হয়নি। সন্দেহ জাগে।
তদন্তে নেমে পুলিশ দেখতে পায়, প্রীতমের মোবাইল নম্বর আবার সচল হয়েছে প্রায় এক বছর পর। নজরদারিতে উঠে আসে সেই ফোন ব্যবহার হচ্ছে সোনিপতে। এরপরেই রোহিত নামে এক যুবককে চিহ্নিত করে পুলিশ। প্রথমে ভুল তথ্য দিলেও পরে পুলিশি জেরায় রোহিত সব স্বীকার করে নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সনিয়া মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রীতমের প্রেমে পড়ে বিয়ে করেন, যা পরিবারের অমতে হলেও পরে তাঁরা মেনে নেন। দম্পতির তিন সন্তান রয়েছে, ১৬ বছরের একটি ছেলে এবং দুই মেয়ে।
খুনের পরে, সনিয়া প্রীতমের অটোরিকশা বিক্রি করে ৪.৫ লক্ষ টাকা পান এবং মোবাইলটি রোহিতকে দিয়ে দেন। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হরিয়ানার পুলিশ একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের পুরুষের দেহ উদ্ধার করেছিল। সেই দেহই সম্ভবত প্রীতমের। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা হবে।
রোহিতের বিরুদ্ধেও খুন ও অস্ত্র সংক্রান্ত আইনে চারটি মামলা রয়েছে। চলতি বছর এপ্রিল মাসে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পরও সনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। বর্তমানে পলাতক বিজয়কে খুঁজছে পুলিশ।
এক আধিকারিক বলেন, 'পরিকল্পনা এতটাই সুচারু ছিল যে প্রথমে এটি নিখোঁজের মামলাই মনে হয়েছিল। কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে একের পর এক জট খুলতে থাকে। শেষমেশ আসল সত্য সামনে আসে।'