১৭ বছরের কন্যা দিব্যা সিকারওয়ারকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ভরত সিকারওয়ার এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। এদের পাশাপাশি ২৩ জনকে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনের নাম চিহ্নিত, বাকি অজ্ঞাত।

মধ্যপ্রদেশে হত্যাকাণ্ড
শেষ আপডেট: 2 October 2025 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবরাত্রির উজ্জ্বল আলো আর দেবী মায়ের আরাধনার শোভায় যখন মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh Murder Case) চম্বল-গোয়ালিয়র আনন্দে মেতে ওঠে, সেইসময় এক মর্মান্তিক ঘটনা সেখানে সাড়া ফেলে দিয়েছে। নিজের বাবার হাতেই খুন হল এক কিশোরী।
১৭ বছরের কন্যা দিব্যা সিকারওয়ারকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত ভরত সিকারওয়ার এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে। এদের পাশাপাশি ২৩ জনকে তদন্তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ১১ জনের নাম চিহ্নিত, বাকি অজ্ঞাত। এমন ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, যে কতটা কঠোরভাবে কিছু পরিবার জাতিভেদ বা সামাজিক নিয়মের নামে হিংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে পারে।
পুলিশ সূত্র জানা গিয়েছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিব্যাকে তাঁর বাড়িতেই গুলি করে খুন করা হয় (Man killed his daughter)। পাঁচদিন পর কুনওয়ারী নদী থেকে তাঁর পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়, প্লাস্টিকে মোড়ানো এবং পাথরের সঙ্গে বাঁধা ছিল, সম্ভবত প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা বলেই অনুমান পুলিশের।
অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ সুরেন্দ্র পাল সিং দাবর জানান, 'মামলায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয় তদন্তে দিব্যার বাবা-মাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্তত দশজনকে সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা পুলিশকে না জানিয়ে দেহ লোপাট করতে সাহায্য করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র, একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিভলভারও উদ্ধার করা হয়েছে।'
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভরত পরিকল্পিতভাবে তাঁর মেয়েকে খুন করেছেন। তিনি সন্ধ্যারতির সময়েই গুলি চালান, যখন বাড়ির বাইরে লাউডস্পিকার দিয়ে ভক্তিমূলক গান বাজছিল। গান এবং আরতির শব্দে গুলির শব্দ কাকে শোনা যায়নি, কেবল দিব্যার ছোট বোন, যিনি চিৎকার করে বাইরে দৌড়ে যান।
পুলিশ আরও জানায়, খুনের পর দেহ লোপাট করতে বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় প্রতিবেশীদের মুখোমুখি হয়ে যান ভরত। সেইসময় তিনি দাবি করেন, দিব্যার মাথায় চোট লেগে অজ্ঞান হয়ে গেছে। পরে দাবি করেন, দিব্যা আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মাথায় একদম কাছ থেকে গুলি চালানো হয়েছে। তদন্ত চলছে, কী কারণে খুন করা হল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।