“এমন পরিস্থিতিতে রাত কাটিয়ে বেঁচে যাওয়া একেবারেই আশ্চর্যজনক,” বলেন এক শিশু বিশেষজ্ঞ।

অভিযুক্ত বাবা-মা, মাঝখানে শিশুটি
শেষ আপডেট: 2 October 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চতুর্থ সন্তান চাকরি হারানোর কারণ হয়ে উঠবে না তো! সেই ভয়ে মাত্র তিন দিনের এক নবজাতককে জঙ্গলে পাথরের নিচে চাপা দিয়ে এল বাবা-মা (teacher parents abandons newborn)।
কিন্তু রাখে হরি, মারে কে! আশ্চর্যের বিষয়, অলৌকিকভাবে বেঁচে রইল শিশুটি। কাছেই হাঁটতে বেরিয়ে কান্নার শব্দ পেয়ে এক ব্যক্তি উদ্ধার করেন তাকে। এটি মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) ছিন্দওয়ারার ঘটনা।
ঘটনা ঘটেছে ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবা বাবলু দান্ডোলিয়া এবং মা রাজকুমারী দান্ডোলিয়া রাজ্য সরকারের এক প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা। ২০০৩ থেকেই তাঁরা তৃতীয় শ্রেণির দায়িত্বে রয়েছেন।
পুলিশি জেরায় তাঁরা স্বীকার করেন যে, তাঁদের আগেই তিন সন্তান আছে - ৮, ৬ এবং ৩ বছর বয়স তাদের। সরকারি চাকরিতে দুই সন্তানের সীমা থাকার কারণে, চাকরি চলে যাওয়ার ভয়ে গর্ভধারণের খবর চেপে গিয়েছিলেন তাঁরা। সন্তান জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়।
ভোরে নন্দনওয়াড়ি গ্রামে হাঁটতে বেরনো কিছু মানুষ কান্নার আওয়াজ শুনে প্রথমে ভেবেছিলেন কোনও পশু হবে। কাছে যেতেই দেখা যায়, একটি পাথরের নিচে থেকে হাত-পা ছটফট করছে রক্তাক্ত এক শিশু। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শরীরে পিঁপড়ের কামড় ও শীতজনিত হাইপোথারমিয়ার লক্ষণ ছিল। “এমন পরিস্থিতিতে রাত কাটিয়ে বেঁচে যাওয়া একেবারেই আশ্চর্যজনক,” বলেন এক শিশু বিশেষজ্ঞ। বর্তমানে শিশুটি নিরাপদে রয়েছে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ৯৩ ধারায় শিশু পরিত্যাগের মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত শেষে ১০৯ ধারা (খুনের চেষ্টা) যোগ হতে পারে বলে জানিয়েছেন এসডিওপি কল্যাণী বরকড়ে।
NDTV-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোর (NCRB) তথ্য বলছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি নবজাতক পরিত্যাগের ঘটনা ঘটে মধ্যপ্রদেশে। দারিদ্র্য, সামাজিক কুসংস্কার বা চাকরির ভয় - এসব কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষিত পরিবার হয়েও এভাবে সন্তানকে হত্যা করতে চাওয়ার ঘটনা আরও ভয়াবহ ও নিন্দনীয়।