বর্তমানে শিশুটি নিরাপদ এবং শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 10 September 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মোরাদাবাদে (Moradabad)। কুরলা এলাকায় এক মা তাঁর মাত্র ১৫ দিনের শিশুকে ফ্রিজের ভেতরে ঢুকিয়ে দেন (newborn put in refrigerator)। রান্নাঘর থেকে কান্নার আওয়াজ আসায় শিশুটির ঠাকুমা ছুটে গিয়ে খুঁজে বার করেন তাকে। উদ্ধার করে শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সে নিরাপদ এবং শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পরিবার।
জানা গিয়েছে, সদ্য মা হওয়া ওই তরুণীর বয়স ২৩ বছর। ১৫ দিন আগে হওয়া পুত্রসন্তানের শরীর ঠিক ভাল যাচ্ছিল না। ছেলেকে রেফ্রিজারেটরে ঢুকিয়ে রেখে তিনি ঘুমোতে চলে যান।
এই ঘটনার পর হাসপাতাল সূত্রে ওই তরুণীর পরিচয় বা নাম কোনও তথ্যই প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
পরিবার প্রথমে ঘটনাটিকে ‘অশুভ শক্তির প্রভাব’ বলে মনে করে নানা ঝাড়ফুঁক ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করে। কিন্তু কোনও উন্নতি না হওয়ায় ওই তরুণী মাকে মনোরোগ ও নেশা-নিবারণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। সেখানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কার্তিকেয় গুপ্তা তাঁকে প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যা বা পোস্টপাটার্ম সাইকোসিস (Postpartum Psychosis)-এ আক্রান্ত বলে শনাক্ত করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং কাউন্সেলিং চলছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যা বা পোস্টপাটার্ম সাইকোসিস কী?
ইউকে’র ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (NHS) জানায়, সন্তান জন্মের পর বেশ কিছু মানসিক পরিবর্তন বা “বেবি ব্লুজ” সাধারণ সমস্যা এবং কয়েকদিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। কিন্তু (পোস্টপাটার্ম সাইকোসিস) Postpartum Psychosis সম্পূর্ণ আলাদা এক মানসিক অবস্থা। এটি গুরুতর মানসিক অসুস্থতা এবং এই বিশেষ ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। দ্রুত অবনতির ঝুঁকি থাকে এবং মা ও শিশুর নিরাপত্তাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেঘনা গুপ্তা জানিয়েছেন, মা হওয়ার পর অনেক মহিলার মানসিক অবসাদ ও সাইকোসিসের মূল কারণ হল অবহেলা ও পর্যাপ্ত মানসিক সহায়তার অভাব। এর ফলে প্রচণ্ড রকম মুড স্যুইংস হতে পারে, আবার তা কখনও অস্বাভাবিক ব্যবহারের লক্ষণ হিসেবেও প্রকাশ পায়। হ্যালুসিনেশন, বিভ্রান্তিও দেখা দেয়।
তাঁর আরও পরামর্শ, ‘এইসব ক্ষেত্রে কোনও কুসংস্কারের সহায়তা না নিয়ে অবিলম্বে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া উচিত। একমাত্র তাতেই দ্রুত গতিতে এই সমস্যার সমাধানের রাস্তা পাওয়া সম্ভব। সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর উপসর্গ কমানো সম্ভব।’