পরিবারের দাবি, ইঁদুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 September 2025 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র তিন দিনের এক নবজাতক কন্যাশিশুর চারটি আঙুল কামড়ে খেল ইঁদুর। শিশুটি জন্মগত জটিলতার কারণে এমওয়াই হাসপাতালে আইসিইউ-তে (NICU) ভর্তি ছিল। পরিবারের দাবি, ইঁদুরের কামড়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। তাদের দাবি, শিশুটি জন্মগত অসুস্থতার কারণেই মারা গিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে।
পরিবার জানিয়েছে, শনিবার হাসপাতাল থেকে প্লাস্টিকে মোড়া অবস্থায় নবজাতকের মৃতদেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু ব্যাগ খোলার পর তাঁরা দেখতে পান, শিশুটির চারটি আঙুল নেই। এই ঘটনা সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই হাসপাতালে আরও এক নবজাতকের মৃত্যু নিয়েও অভিযোগ উঠেছে, তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেটিও জন্মগত অসুস্থতার কারণেই হয়েছে বলে দাবি করেছে।
শিশুটির বাবা দেবরাম, ধারের রূপপাতা গ্রামের বাসিন্দা, সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমার মেয়ের মৃত্যু হয়েছিল বুধবারেই। অথচ দেহ আমাদের হাতে দেওয়া হল শনিবার। অন্ত্যেষ্টির প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আমরা যখন কাপড় খুললাম, তখনই দেখি এক হাতের চারটি আঙুল নেই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মৃত্যুর খবরও তাঁকে জানানো হয়নি। স্থানীয় এক নেতা এসে খবর দিলে তিনি জানতে পারেন। “হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী একজন ভিজিটারের জন্য একটিই গেটপাস দেওয়া হয়। আমরা ভেবেছিলাম হাসপাতাল আমাদের ফোন করবে। আমরা মেয়ে ফেলে রেখে তো আসিনি। কিন্তু হাসপাতালে না জানিয়ে দেহ আটকে রাখা হল। এটা কীভাবে সম্ভব?” ক্ষোভ প্রকাশ করেন দেবরাম।
অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নবজাতকের মৃত্যু ইঁদুরের কারণে হয়নি। এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “শিশুটি জন্মগত জটিলতায় মারা গেছে। মঙ্গলবার রাতে একটি নবজাতকের আঙুলে ইঁদুর কামড়েছিল ঠিকই, কিন্তু মৃত্যুর কারণ তা নয়।”
প্রসঙ্গত, ওই শিশুটি বুধবার মারা যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, ইঁদুর কেবল ‘চিবিয়ে দিয়েছিল’, কিন্তু তাতে মৃত্যু হতে পারে না।
ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালের চার কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কীটনাশক সংস্থার সঙ্গে হাসপাতালের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি নার্সিং ইনচার্জ এবং শিশু শল্যচিকিৎসা বিভাগের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ধরানো হয়েছে।
শনিবার হাসপাতালের সামনে নবজাতকের বাবা-মা মঞ্জু ও দেবরাম আন্দোলনে নামেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল জয় আদিবাসী যুব শক্তি (JAYS) সংগঠনের কর্মীরাও। তাঁরা ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং হাসপাতাল প্রশাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।