বড় প্রশ্ন থেকে যায়, নবজাতক নার্সিং কেয়ার ইউনিটে (NICU) কীভাবে ইঁদুর ঘুরছিল? হাসপাতালের কর্মীরা স্বীকার করেছেন, কয়েকদিন ধরে একটি বড় ইঁদুর ওই NICU-তে ঘুরছিল।

ইঁদুরের কামড়ে মৃত্যু দুই শিশুর
শেষ আপডেট: 3 September 2025 21:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিনে দুই সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যুতে শোক ও ক্ষোভে ভরে উঠল মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের (Madhya Pradesh Hospital) সবচেয়ে বড় সরকারি হাসপাতাল, মহারাজা যশবন্তরাও (MY) হাসপাতাল। বুধবার দুপুরে দেবাস থেকে আনা এক শিশু মারা যায়। তার ঠিক এক দিন আগে খান্ডওয়ারের এক শিশুকন্যাও একইভাবে প্রাণ হারিয়েছিল। দুটি পরিবার সন্তানকে সুস্থ করার আশায় এসেছিল, কিন্তু ফিরতে হল আকাশসমান যন্ত্রণা নিয়ে। কীভাবে মৃত্যু হল দু'জনের, খতিয়ে দেখতেই জানা গেল, হাসপাতালের ভিতরেই ইঁদুরের কামড়ে (Newborns Bitten by Rats) প্রাণ হারিয়েছে দুই সদ্যোজাত।
তবে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা স্পষ্ট দাবি, দুই শিশুর জন্ম থেকেই শারীরিক অসুস্থতা ছিল, তার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট অশোক যাদব জানান, 'দুই শিশুরই জন্মগত অ্যানিমিয়া ছিল, তাঁদের অন্য হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয়েছিল। একজনের ওজন ছিল মাত্র ১ কেজি, অন্যটির ১.৬ কেজি, হিমোগ্লোবিনও খুব কম ছিল। শরীরে কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে, কিন্তু সেগুলো মৃত্যুর কামড় নয়।'
ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট চিকিৎসক জিতেন্দ্র বর্মা বলেন, 'এই শিশুকন্যাটি জন্মগত অ্যানিমিয়ায় ভুগছিল, হাতও বিকৃত ছিল। সাতদিন আগে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। ৩-৪ দিন ধরে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়েছিল। আঙ্গুলে সামান্য কামড়ের চিহ্ন ছিল তবে মৃত্যু হয়েছে জন্মগত অ্যানিমিয়ার কারণে।'
তবে বড় প্রশ্ন থেকে যায়, নবজাতক নার্সিং কেয়ার ইউনিটে (NICU) কীভাবে ইঁদুর ঘুরছিল? হাসপাতালের কর্মীরা স্বীকার করেছেন, কয়েকদিন ধরে একটি বড় ইঁদুর ওই NICU-তে ঘুরছিল। এমনকি পাশের নেহরু চিলড্রেন্স হাসপাতাল, ক্যান্সার হাসপাতাল ও টিবি সেন্টারের করিডোরেও ইঁদুর ঘোরাফেরা করছে।
হাসপাতালের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের দাবি জমা জলের কারণে ইঁদুর গর্ত ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে। এদিকে দুই শিশুমৃত্যুর পর তৎপর হয়েছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী রাজেন্দ্র শুক্লা জানান, 'এটি গুরুতর বিষয়, ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদি পেস্ট কন্ট্রোল সময়মতো করা হত, ইঁদুর থাকত না। পেস্ট কন্ট্রোল সংস্থার বিরুদ্ধে একলক্ষ টাকা জরিমানা আর তাদের বরখাস্তের নোটিশ জারি করা হয়েছে। নার্সিং সুপারিনটেনডেন্টকে সরানো হয়েছে, দুই নার্সিং অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং শিশুরোগ বিভাগের প্রধানকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।'
যদিও এই ঘটনায় রাজ্যের বিজেপি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছে বিরোধীরা। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারি অভিযোগ করেছেন, 'ইঁদুর নয়, ব্যর্থ প্রশাসনই শিশুদের মৃত্যুর জন্য দায়ী।'