২০২৫ সালে এসে বদলায় ছবি। জানা যায়, ইনস্টাগ্রাম রিল ঘাঁটতে ঘাঁটতে শীলুর একটি ভিডিও চোখে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, আনন্দে নাচছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু তিনি কোনও অচেনা মানুষ নয়, তাঁর স্বামী বাবলু।
.jpg.webp)
'মৃত' স্বামীর খোঁজ মিলল ইনস্টা রিলে
শেষ আপডেট: 3 September 2025 15:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত বছর আগে হঠাৎ 'নিখোঁজ' হন স্বামী। তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেই কঠিন সত্যকে মেনে নিয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন এতদিন। কিন্তু হঠাৎ ইনস্টাগ্রাম রিল (Husband found in Insta Reel) স্ক্রল করতেই একটি ভিডিও দেখে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না লখনউয়ের বাসিন্দা শিলু। রিলে এক মহিলার পাশে বসে রয়েছেন তাঁর মৃত স্বামী!
২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) হারদোই জেলায় জিতেন্দ্র কুমার ওরফে বাবলুর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল শীলুর। কয়েকমাস পরই অন্তঃসত্ত্বা হন তিনি। সেইসময়েই হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান বাবলু। অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও যুবকের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্বাভাবিকভাবেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাশে দাঁড়ানোর বদলে শীলুর দিকেই আঙুল তোলেন। এমনকি স্বামীকে খুন করে দেহ লুকিয়ে রাখার অভিযোগ পর্যন্ত করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে। থানায় নিখোঁজ ডায়রি হলেও, কিছুদিনের মধ্যেই মামলা ঠান্ডা পড়ে যায়। এদিকে বছরের পর বছর ধরে 'স্বামী হত্যার আসামি'র তকমা বইতে হয়েছে শীলুকে। এসবের মধ্যেই সন্তানের জন্ম দেন। একা হাতেই ছেলেকে মানুষ করেছেন তিনি।
২০২৫ সালে এসে বদলায় ছবি। জানা যায়, ইনস্টাগ্রাম রিল ঘাঁটতে ঘাঁটতে শীলুর একটি ভিডিও চোখে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, আনন্দে নাচছেন এক ব্যক্তি। কিন্তু তিনি কোনও অচেনা মানুষ নয়, তাঁর স্বামী বাবলু। আর তাঁর সঙ্গে দেখা গেল এক অচেনা মহিলাকেও।
খবর দেওয়া হয় পুলিশে। তদন্তে উঠে আসে ওই মহিলা বাবলুর দ্বিতীয় স্ত্রী। গত কয়েক বছরের বিবাহিত জীবন তাঁদের। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক রসিকতা করে বলেন, 'শীলু সাত বছর অপেক্ষা করেছেন, আর একটিমাত্র রিলেই সব রহস্যের সমাধান হয়ে গেল।'
এদিকে রাগে-অভিমানে ফুঁসতে থাকা শীলু ভিডিওটি ভাইরাল করে দেন। এর পরই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর কথায়, 'সংসারে থাকতে চাইছিলেন না হয়তো। কিন্তু একবারের জন্যও নিজের সন্তানের খোঁজ নেননি। বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি বাবলু।'
শীলুর অভিযোগের ভিত্তিতে জিতেন্দ্র কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তের জন্য তাঁকে বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।