মামলাটি দায়ের করেছিলেন এক বাবা, যিনি তাঁর নয় বছরের ছেলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যোগাযোগের অনুমতি চেয়েছিলেন।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 3 September 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটি শিশুর জীবনে মা ও বাবা দু’জনের স্নেহই (Parents love) সমানভাবে জরুরি। অভিভাবকরা আলাদা থাকলেও বা আলাদা দেশে বসবাস করলেও, সন্তানের উচিত উভয়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা - পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court about parents love and parenting)।
মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানিতে এই রায় দেন। মামলাটি দায়ের করেছিলেন এক বাবা, যিনি তাঁর নয় বছরের ছেলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে যোগাযোগের অনুমতি চেয়েছিলেন। বর্তমানে ছেলেটি আয়ারল্যান্ডে মায়ের সঙ্গে থাকছে (child custody)।
আদালত জানায়, শিশুটি আপাতত মায়ের কাছে থেকে সেখানকার পরিবেশে মানিয়ে নিয়েছে। তবে মা–বাবা দু’জনেরই আচরণ আদর্শ নয় এবং তাঁদের ব্যক্তিগত মতভেদ দীর্ঘ ও তিক্ত সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই সংঘাতের শিকার হতে পারে না শিশু। তাই এখনই তার বসবাসের পরিবেশে পরিবর্তন আনা সন্তানের স্বার্থে ঠিক হবে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, “বাবা নিজে সন্তানের অভিভাবকত্ব চাননি, শুধু নিয়মিত ভিডিও চ্যাটে যোগাযোগের সুযোগ চেয়েছেন। আমরা মনে করি এই দাবি ন্যায়সঙ্গত এবং প্রাসঙ্গিক। প্রতিটি শিশুরই দু’জন অভিভাবকের স্নেহ পাওয়ার অধিকার আছে। মা–বাবা আলাদা থাকলেও বা বিদেশে থাকলেও সন্তানের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি। তা অস্বীকার করলে সন্তানকে কাছে পিতৃস্নেহ, দিশা ও মানসিক সমর্থন থেকে বঞ্চিত করা হবে।”
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই ব্যক্তি প্রতি দ্বিতীয় রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা (আয়ারল্যান্ড সময়) পর্যন্ত দুই ঘণ্টা তাঁর ছেলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলতে পারবেন।
শীর্ষ আদালত আরও জানিয়েছে, “উভয় পক্ষই যেন সদিচ্ছা ও সহযোগিতার সঙ্গে এই বন্দোবস্ত বাস্তবায়ন করে। কোনও প্রকার বাধা বা শত্রুতার পরিবেশ তৈরি করা চলবে না। প্রযুক্তিগত বা লজিস্টিক কোনও অসুবিধা হলে তা পারস্পরিকভাবে মিটিয়ে নিতে হবে। সন্তানের স্বার্থই সবচেয়ে আগে।”