সুরাত আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সম্মতিসূচক সম্পর্কে বিয়ে না করলে তা ফৌজদারি অপরাধ নয়। তিন বছরের আইনি লড়াই শেষে মুক্তি অভিযুক্তের।

সুরাত আদালত
শেষ আপডেট: 28 August 2025 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর সুরাত আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে এক যুবককে মুক্তি দিয়েছে। আদালত রায়ে জানিয়েছে, দু'জনের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করলে তা ধর্ষণের অপরাধ বলে গণ্য হবে না। বিচ্ছেদজনিত কারণেই এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল, কোনও জবরদস্তির কারণে নয়, আদালত এই যুক্তিকে মেনে নিয়ে অভিযুক্তকে মুক্তি দিয়েছে।
কী ছিল ঘটনাটি?
২০২২ সালের জুলাই মাসে দিণ্ডোলির এক তরুণী কাটারগামের এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী জানান যে, ইনস্টাগ্রামে তাদের পরিচয় হয়। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত তার সঙ্গে বারবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং পরে তাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ যুবককে গ্রেফতার করে এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
আদালতে কী ঘটেছে?
মামলার শুনানির সময় অভিযুক্তের আইনজীবী অশ্বিন জে যোগাদিয়া বলেন, এই সম্পর্কে কোনও জোরজবরদস্তি ছিল না এবং অভিযোগটি ব্রেকআপের ফল।
চিকিৎসকের দেওয়া সাক্ষ্যও এই মামলাকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগকারীকে পরীক্ষা করা চিকিৎসক জানান, ওই তরুণী স্বীকার করেছেন যে তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ বার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন।
জোরপূর্বক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই চিকিৎসক আরও বলেন যে, কিছু ক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন চাহিদা পুরুষদের চেয়ে বেশি হতে পারে। এই যুক্তিটি ব্যবহার করে প্রতিরক্ষা পক্ষ অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, অভিযোগগুলো ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে না এবং অভিযুক্তকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।