শ্বশুর ভূপ সিং নিজেই থানায় গিয়ে তনুর নিখোঁজের রিপোর্ট দায়ের করে আসে এবং প্রতিবেশীদের জানায়, তনু বাজারে গিয়েছিল, ফিরে আসেনি।

শেষ আপডেট: 22 June 2025 16:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৌমা পালিয়ে গেছে বলে দাবি করেছিল শ্বশুরবাড়ি। হরিয়ানার ফরিদাবাদে প্রায় দু’মাস পর উদ্ধার হল তার পচাগলা দেহ। নিজেরই শ্বশুরবাড়ির সামনের রাস্তায় কংক্রিটের নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল তার মৃতদেহ। পুলিশি জেরার মুখে খুনের কথা স্বীকার করেছে শ্বশুর ভূপ সিং।
উত্তরপ্রদেশের ফিরোজাবাদের শিকোহাবাদ এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি তনু সিংয়ের বিয়ে হয়েছিল ফরিদাবাদের রোশন নগরের অরুণ সিংয়ের সঙ্গে। বিয়ের পর মাত্র দু’বছরের মাথায় ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
শুক্রবার ভোরে পুলিশ একটি ১০ ফুট গভীর গর্ত থেকে উদ্ধার করে তনুর দেহ। পুলিশ জানায়, ওই গর্তটি মূলত ড্রেনেজের কাজের অজুহাতে খোঁড়া হয়েছিল। শ্বশুরবাড়ির ঠিক সামনের রাস্তার মাঝখানে খুঁড়ে তার ওপরে একটি নতুন কংক্রিট স্ল্যাব বসানো ছিল। তনুর দেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ভূপ সিং স্বীকার করেছে, ২১-২২ এপ্রিল রাতে তিনি তনুকে একতলার একটি ঘরে গলা টিপে হত্যা করেন। সেই সময় স্ত্রী সোনিয়া ও ছেলে অরুণ বাড়িতে ছিল না। এরপর ওই ড্রেনেজ গর্তে দেহ ফেলে চাপা দিয়ে দেওয়া হয়।
পরে ২৫ এপ্রিল নিজেই থানায় গিয়ে তনুর নিখোঁজের রিপোর্ট দায়ের করে আসে এবং প্রতিবেশীদের জানায়, তনু বাজারে গিয়েছিল, ফিরে আসেনি।
তনুর মৃত্যুর ঘটনায় চারজনের নাম এফআইআরে রয়েছে- ভূপ সিং, স্ত্রী সোনিয়া, ছেলে অরুণ এবং মেয়ে কাজল।এসিপি জানান, ‘হত্যাকাণ্ডের সময় বাড়িতে কাজল ছিল। এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে সে বা অন্য কেউ আগে থেকেই এই ব্যাপারে কিছু জানত কিনা। প্রাথমিকভাবে এটা পণের কারণে হত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে, তবে তদন্ত চলছে।’
তনুর বোন প্রীতি দাবি করেছেন, ২০২৩ সালে বিয়ের পর থেকেই তাঁর দিদি মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার। অরুণ ও তার বাবা-মা সোনার গয়না, টাকা পণ হিসেবে দাবি করেছিলেন। প্রীতি জানিয়েছেন, নানা সহযোগিতা সত্ত্বেও তাঁদের ওপর থেকে চাপ কমেনি।
তনুর বাড়ির লোক জানিয়েছেন, বিয়ের মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তনু তাঁদের কাছে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন, কারণ বরাবরই তাঁর সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা হত না। প্রায় এক বছর তনু তাঁদের সঙ্গেই ছিলেন। ফিরে যাওয়ার পর আবার নির্যাতন শুরু হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকরা তাঁদের সঙ্গে তনুকে যোগাযোগ করতে দিত না, এমনকী ফোনেও কথা বলা বারণ ছিল।
প্রীতি আর জানিয়েছেন, ২৩ এপ্রিল ওরা জানায় তনু বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। কিন্তু সন্দেহ আরও বাড়ে, কারণ ৯ এপ্রিল তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যায়নি। এরপর পুলিশে খবর দেওয়া হলেও ‘কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার’ অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তনুর শ্বশুর ২০২৫-এর এপ্রিল মাসে ‘প্রপার ড্রেনেজ সিস্টেম’ না থাকার কথা তুলে খাল খোঁড়েন। এক প্রতিবেশী বলেন, ‘খাল কাটার এক সপ্তাহের মধ্যে সেটি সিমেন্ট দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তনুকে আর কেউ দেখেনি। অনেকেই সন্দেহ করতে শুরু করেছিলেন যে, কিছু সমস্যা রয়েছে এখানে।