এদিন ভাগবতের দাবি, বিশ্বের অনেক দেশেই এরকম নীতি কার্যকর রয়েছে। ভারতেও জনসংখ্যার স্থিতি বজায় রাখতে মহিলাদের তিন সন্তান গ্রহণ করা উচিত।

মোহন ভাগবত
শেষ আপডেট: 28 August 2025 21:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় পরিবারকে (Indian Family) অন্তত তিনটি সন্তান নেওয়ার পরামর্শ দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তাঁর যুক্তি, বিশেষজ্ঞদের মতে দুইয়ের কম সন্তান (Child) থাকলে বংশবিস্তার থমকে যায় এবং প্রজন্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে কোনও সম্প্রদায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে পারে (Family should have 3 children for sufficient population)।
আরএসএস-এর প্রতিষ্ঠার (RSS Foundation Day) শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে ভাগবত বলেন, “দেশে জন্মহার ন্যূনতম ২.১ রাখতে হবে। গণনায় ২.১ মানে ২, কিন্তু সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা সর্বদা তিন হতে হবে। চিকিৎসকরা আমায় এ কথাই জানিয়েছেন।”
আসলে এ বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর নাগপুরে সংঘের বৈঠকেও তিনি একই সুরে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই সময় ভাগবত বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণা প্রমাণ করছে— যে কোনও জাতির জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.১ এর নীচে নামলেই ধ্বংসের দিকে এগোয় সেই সমাজ। এর জন্য বাহ্যিক আক্রমণ দরকার হয় না, ভেতর থেকেই বিলীন হয়ে যায় সংস্কৃতি ও সভ্যতা। তাঁর কথায়, “ইতিহাস সাক্ষী, বহু ভাষা আর সংস্কৃতি এভাবে মুছে গেছে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। তাই ২.১ এর নিচে জন্মহার নামা চলবে না।”
এদিন ভাগবতের দাবি, বিশ্বের অনেক দেশেই এরকম নীতি কার্যকর রয়েছে। ভারতেও জনসংখ্যার স্থিতি বজায় রাখতে মহিলাদের তিন সন্তান গ্রহণ করা উচিত।
ভারত ইতিমধ্যেই চিনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের আসন দখল করেছে। কিন্তু এ অবস্থাতেই দেশজুড়ে জন্মহার কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের জুন মাসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ভারতে বর্তমানে প্রতি মহিলার গড় প্রজনন হার নেমে এসেছে ১.৯-এ। অথচ জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষায় ন্যূনতম হার থাকা উচিত ২.১।
এই প্রেক্ষিতেই নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য।
শুধু তাই নয়, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত আরও বলেন, ধর্মস্থাপন বা ধর্মরক্ষাই হল সব ধর্মের উপরে। এই জ্ঞান দিয়েই বিশ্বশান্তি রক্ষা করা যায়। পাকিস্তান বা বাংলাদেশের নাম না করেই সঙ্ঘ চালক বলেন, যেসব দেশ একদিন ভারতেরই অংশ ছিল, বিশেষ করে যারা আমাদের প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার বিষয়ে ভারতকে অগ্রণী হতে হবে।
তাঁর কথায়, সঙ্ঘের অতি পরিচিত ও প্রাচীন অখণ্ড ভারতের মানচিত্র হল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিব্বতকে জুড়ে। যদিও এই ভাষণে মোহন ভাগবত পৌরাণিক সাহিত্যে উল্লিখিত আর্য সভ্যতাকালীন অখণ্ড ভারতের সংযুক্তির কথা সরাসরি বলেননি।