অনুষ্ঠানে ছিলেন রাশিয়া ও চিনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু, সঙ্ঘের তরফে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে তিনদিনের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ভাষণ দিচ্ছিলেন সঙ্ঘ প্রধান।
শেষ আপডেট: 28 August 2025 13:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত বললেন, ধর্মস্থাপন বা ধর্মরক্ষাই হল সব ধর্মের উপরে। এই জ্ঞান দিয়েই বিশ্বশান্তি রক্ষা করা যায়। পাকিস্তান বা বাংলাদেশের নাম না করেই সরসঙ্ঘ চালক বলেন, যেসব দেশ একদিন ভারতেরই অংশ ছিল, বিশেষ করে যারা আমাদের প্রতিবেশী, তাদের সঙ্গে মিলেমিশে থাকার বিষয়ে ভারতকে অগ্রণী হতে হবে। সঙ্ঘের অতি পরিচিত ও প্রাচীন অখণ্ড ভারতের মানচিত্র হল, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও তিব্বতকে জুড়ে। যদিও এই ভাষণে মোহন ভাগবত পৌরাণিক সাহিত্যে উল্লিখিত আর্য সভ্যতাকালীন অখণ্ড ভারতের সংযুক্তির কথা সরাসরি বলেননি।
আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে তিনদিনের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে ভাষণ দিচ্ছিলেন সঙ্ঘ প্রধান। সেখানের তিনি বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা খুবই জরুরি। আর এই কাজে দরকার হলে ভারতই প্রথম পা বাড়াতে পারে। শতবর্ষ অনুষ্ঠানে সঙ্ঘ বেশ কয়েকটি বিদেশি রাষ্ট্রকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি কার্যকর হওয়ার দিনই সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন রাশিয়া ও চিনের প্রতিনিধিরা। কিন্তু, সঙ্ঘের তরফে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও তুরস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
রাজধর্ম পালনের বার্তা দিয়ে ভাগবত বলেন, ধর্ম ও সম্প্রদায় দেখে সম্পর্ক পাতানো যায় না। এখানে ধর্মপালনই হল সব ধর্মের উপরে। ভারতের ধ্যানধারণা, আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের দর্শন-জ্ঞান-বিজ্ঞানকে বাইরে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের দিশাকে আরও বিস্তৃত করা জরুরি। আর এই কাজে প্রথম পদক্ষেপটিই হল প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলি। আমাদের অধিকাংশ প্রতিবেশী দেশই একদিন ভারতের অংশ ছিল।
প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বলতে গিয়ে ভাগবত বলেন, আমাদের নদী, পাহাড় এবং জনবসতি সবই এক। মানচিত্রে শুধু একটি আঁচড়ে ভাগ করে রাখা হয়েছে। এর কারণ প্রত্যেকে যাতে নিজের পরম্পরাগত মূল্যবোধ নিয়ে উন্নতির সোপানে চড়তে পারে। আমাদের ধর্ম, সম্প্রদায়, জাতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু আমাদের সংস্কারে কোনও ভিন্নতা নেই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন বক্তৃতায় ভারতকে বিশ্বগুরু বলে বুক ঠুকে দাবি করে থাকেন। সে বিষয়ে দাগ না কেটেই ভাগবতের মতে, বিশ্বকে বদলানোর চেষ্টার আগে কাউকে নিজের ঘরেই পরিবর্তন আনতে হয়। আর এই কাজে প্রথম প্রতিবেশীকেই কাছে টানতে হবে।
সঙ্ঘ প্রধান বলেন, ভারতের প্রথম কর্তব্য হওয়া উচিত যারা আমাদেরই লোক তাদের সঙ্গে আমাদের মত বিনিময় করা। এই দেশগুলি আলাদা থাকতেই পারে কিন্তু মূল্যবোধের ভিত ও ঐতিহ্য একই। তাই তারাও উন্নতি করুক এবং এই কাজে হাত বাড়িয়ে দিক ভারত। সঙ্ঘের শতবর্ষে বিভিন্ন দেশের ৫৫ জন দূত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ১০ জনের বেশি রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং অন্যান্য দূত উপস্থিত ছিলেন।