নাগপুরে ধর্ম জাগরণের অনুষ্ঠানে সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বললেন, হিন্দু ধর্মই (Hindu Religion) শেখায় বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, মানবতার ধর্ম হিসেবেই এটি আজকের বিশ্বের প্রয়োজন।
.jpeg.webp)
মোহন ভাগবত।
শেষ আপডেট: 6 August 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিভেদে জর্জরিত এই পৃথিবীতে এখন হিন্দুধর্মের (Hinduism) প্রয়োজন আগের চেয়ে অনেক বেশি! এমনই মন্তব্য করলেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। নাগপুরে ধর্ম জাগরণ ন্যাসের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'আজকের পৃথিবী জানেই না কীভাবে বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে হয়। আর সে কারণেই এত সংঘর্ষ, এত অস্থিরতা।'
মোহন ভাগবতের কথায়, 'হিন্দু ধর্ম আমাদের শেখায়, বৈচিত্র্য মানেই ভিন্নতা নয়, বরং এই ভিন্নতার মধ্যেই লুকিয়ে আছে ঐক্য। হিন্দু ধর্ম কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, এটি প্রকৃতির ধর্ম, মানবতার ধর্ম (religion of humanity)। এই ধর্ম প্রতিটি হৃদয়কে জাগ্রত করতে সক্ষম।'
তিনি বলেন, ভারতের ইতিহাসে ধর্মের জন্য বহু আত্মত্যাগ হয়েছে। 'ধর্মের জন্য কাটা পড়েছে অগণিত মস্তক। কিন্তু কেউ ধর্ম ত্যাগ করেননি। ছবিতে যেমন ‘ছাভা’ দেখেছেন, বাস্তবেও এমন উদাহরণ ভর্তি আমাদের ইতিহাসে।'
‘ছাভা’ একটি হিন্দি চলচ্চিত্র, যেখানে মারাঠা সম্রাট ছত্রপতি সম্ভাজির জীবনের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। ১৬৮৯ সালে মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের হাতে নির্মমভাবে নিহত হন সম্ভাজি।
ভাগবত বলেন, শুধু রাজারা নয়, সাধারণ মানুষও এমন আত্মত্যাগ করেছেন, কারণ তাঁরা বিশ্বাস করতেন, 'আমাদের ধর্ম সত্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আর সেই চূড়ান্ত সত্য হল, আমরা হয়তো দৈনন্দিন জীবনে হয়তো আলাদা, কিন্তু আদতে আমরা সবাই এক।'
আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, 'হিন্দুধর্ম শেখায়, সব ধর্মের পথ এক উৎসের দিকে যায়। তাই কেউ যেন জোর করে অন্যের পথ বদলাতে না চায়। হিন্দুধর্ম পরিবর্তন চায় না, মেনে নেওয়ার শিক্ষা দেয়।'
শেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'ধর্ম কেবল ঈশ্বরের প্রতি নয়, সমাজের প্রতিও দায়বদ্ধ। তাই আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য এই ধর্মকে শুধু মানা নয়, সমাজে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা।'