বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) দোহাই দিয়ে বারবার এই ধরণের দুর্যোগের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এতে আসল দোষগুলো আড়ালে থেকে যায়, যেমন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অপরিকল্পিত নির্মাণ, দুর্বল সতর্কবার্তা এবং দুর্বল বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 6 August 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী-সহ একাধিক এলাকায় (Flash floods in Uttarkashi)। ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি ঘর। প্রাণহানি হয়েছে। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা। এই ঘটনার পর একটি প্রশ্ন ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। কেন এখনও হিমালয় অঞ্চলে একটি সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা চালু করা গেল না? বহু বছর ধরেই বিষয়টি আলোচনায় থাকলেও বাস্তবায়নের অভাবে প্রতি বছর বিপদের মুখে পড়ছে পাহাড়ি অঞ্চলগুলি। বিশেষজ্ঞদের কথায়, বারেবারে এই বিপর্যয়ের জন্য প্রশাসনের 'পরিকল্পনার ঘাটতি'ই দায়ী (Expert On Uttarakhand Tragedy)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) দোহাই দিয়ে বারবার এই ধরণের দুর্যোগের দায় এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। এতে আসল দোষগুলো আড়ালে থেকে যায়, যেমন প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অপরিকল্পিত নির্মাণ, দুর্বল সতর্কবার্তা এবং দুর্বল বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থা।
পরিবেশ দফতরের প্রাক্তন সচিব ড. রাজীবন জানান, “যখন আমি সচিব ছিলাম, তখন একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে পুরো হিমালয় অঞ্চলের জন্য সমন্বিত আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেটা আর বাস্তবে করা হয়ে ওঠেনি।”
তিনি জানান, সম্প্রতি ‘মৌসম মিশন’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশ মন্ত্রক, যেখান থেকে এই সতর্কবার্তা ব্যবস্থার বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে। “সরকার প্রয়োজনীয় অর্থও দিয়েছে। এখনই এই ব্যবস্থাটি চালু না করলে, ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষয়ক্ষতি হবে”, এমনটাই আশঙ্কা প্রাক্তন সচিবের।
ড. রাজীবনের মতে, উত্তরাখণ্ডে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার জন্য আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন রাডার, স্বয়ংক্রিয় আবহাওয়া স্টেশন, বৃষ্টিপাত ও নদী পরিমাপক যন্ত্রের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের খুব উচ্চ রেজোলিউশনের (১-৩ কিলোমিটার) আবহাওয়ার পূর্বাভাস মডেল দরকার। যদিও এগুলোর নির্ভুলতা এখনও সীমিত। তাই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর সাহায্যে এমন ভবিষ্যৎবাণী ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত।” স্যাটেলাইট ছবি, বজ্রপাতের তথ্য ও রাডার ডেটা মিলিয়ে তৈরি এই এআই-চালিত নাওকাস্টিং সিস্টেম থেকে ১-৩ ঘণ্টা আগাম পূর্বাভাস পাওয়া যাবে বলে মত তাঁর।
এছাড়া, অঞ্চলভিত্তিক হাইড্রোলজিক্যাল মডেল, মোবাইল অ্যাপ ও পঞ্চায়েত স্তরে সম্প্রদায়ভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থার কথাও উঠে আসে।
উত্তরকাশীর ধারালি-সহ বেশ কিছু অঞ্চলে এই ফ্ল্যাশ ফ্লাডের প্রভাব আরও মারাত্মক হয়েছে অপরিকল্পিত নির্মাণ ও অনিয়ন্ত্রিত পর্যটনের জন্য। বিশেষজ্ঞদের কথায়, 'নদী ও ঝোরা পথ দখল করে হোটেল, হোমস্টে তৈরি হচ্ছে। এর কোনও নিয়ম নেই, নেই নিয়ন্ত্রণও। নদীর জলধারার জন্য ঠিক কতটা জায়গা দরকার, তাও মূল্যায়ন করা হয়নি।'
বাঁধ, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, হাইওয়ে, শহর বা রেললাইনের মতো প্রকল্পগুলো নদীতে মাটি-আবর্জনা ফেলে জলপথ সংকীর্ণ করছে। নদীর স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ায় বৃষ্টির জল দ্রুত নদীতে নেমে আসছে, যার ফলে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এই ধরনের বৃষ্টিপাতের ঘন ঘনতা বাড়ছে বটে, কিন্তু একে দায় দিয়ে সমস্ত প্রশাসনিক ব্যর্থতা ধামাচাপা দেওয়া ঠিক নয়।