প্রায় এক দশক আগে ধর্মস্থল ছেড়ে ওই ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কখনও যদি তাঁদেরও মেরে ফেলা হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 July 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধর্ষণের শিকার হওয়া নির্যাতিতাদের দেহ কবর দিতে বাধ্য করা হত, ২৫ বছর আগের একাধিক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেন ধর্মস্থল মন্দিরের এক প্রাক্তন সাফাইকর্মী (Karnataka Man shocking confession)। ওই ব্যক্তির দাবি, ১৯৯৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে তাঁকে জোর করে বহু ধর্ষিতা ও খুন হওয়া মহিলার দেহ পুড়িয়ে ফেলতে বা কবর দিতে বাধ্য করা হয়েছিল (Forced into burning and burying the bodies)। কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার ধর্মস্থলা এলাকা থেকে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সম্প্রতি ওই ব্যক্তি স্থানীয় থানায় হাজির হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। তিনি এত বছর ধরে এই ভয়াবহ স্মৃতি ও অপরাধবোধ (Guilt-ridden) নিয়ে বেঁচে ছিলেন। অবশেষে সাহস করে পুলিশের কাছে গিয়ে সব তথ্য দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারী বলেন, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হত। না চাইতেও তাঁকে সেই দেহ সরাতে বাধ্য করা হত। কিছু দেহ ছিল বিবস্ত্র, অনেক ক্ষেত্রে যৌন নির্যাতন ও শ্বাসরোধের চিহ্ন স্পষ্ট ছিল। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন মেয়েগুলি আত্মহত্যা করেছে বা দুর্ঘটনার শিকার। পরে স্পষ্ট হয়, এরা ধর্ষণের শিকার এবং তাঁদের খুন করা হয়েছে।
একটি ঘটনার কথা মনে করে কেঁপে ওঠেন সাফাই কর্মী। ২০১০ সালে, একটি পেট্রল পাম্পের কাছে প্রায় ১৩-১৪ বছরের এক স্কুলছাত্রীর দেহ খুঁজে পান তিনি। মেয়েটির দেহের পাশেই স্কুল ব্যাগ ছিল কিন্তু স্কার্ট ও অন্তর্বাস ছিল না। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পরে তাঁকে গর্ত খুঁড়ে সেই দেহ চাপা দিতে বলা হয়।
প্রায় এক দশক আগে ধর্মস্থল ছেড়ে ওই ব্যক্তি পার্শ্ববর্তী রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করেন। তাঁর অভিযোগ, তিনি ও তাঁর পরিবার প্রতিদিন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, কখনও যদি তাঁদেরও মেরে ফেলা হয়।
সম্প্রতি পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে প্রাক্তন সাফাইকর্মী সব কথা বলেন এবং নিজের ও পরিবারের সুরক্ষা চেয়ে আর্জি জানান। তাঁর আইনজীবী পুলিশকে জানান, তিনি কবর দেওয়া দেহাবশেষের ছবি দিয়েছেন এবং যেসব জায়গায় দেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল, তাও দেখাতে পারবেন।
ধর্মস্থল থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২১১(এ) ধারায় (প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন রাখা) মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং আদালতের অনুমতি নিয়েই তদন্ত এগোবে। এত বছরের পুরনো একের পর এক ধর্ষণ-খুনের অভিযোগে এবার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। যদি প্রমাণ মেলে, ধর্মস্থলা ও সংলগ্ন এলাকার বহু অন্ধকার অধ্যায়ের পর্দা এবার উঠতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।