পড়াশোনার চাপ ও সেমিস্টার ফি নিয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ছত্তীসগড়ের রায়গড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল ঘর থেকেই উদ্ধার হল তরুণীর ঝুলন্ত দেহ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 22 December 2025 09:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রায়গড় (Raigarh) জেলার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে আত্মঘাতী পড়ুয়া। মৃতের নাম প্রিন্সি কুমারী (Princy Kumari)। ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের (Jamshedpur) বাসিন্দা প্রিন্সি ছত্তীসগঢ়ের রায়গড় জেলার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স (Computer Science) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। থাকতেন পুঞ্জিপাথরা (Punjipathra) সংলগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলেই।
শনিবার রাতে হস্টেলে নিজের ঘরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রিন্সি। অনেকক্ষণ তাঁর ঘর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় হস্টেল কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। পরে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তের পর দেহ ময়নাতদন্তের (Post-mortem) জন্য পাঠানো হয়। রবিবার ময়নাতদন্তের পরে দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, পড়াশোনার চাপ থেকেই চরম সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষার পাশাপাশি প্রথম বর্ষের একাধিক ব্যাকলগ (Backlog) পরীক্ষাও দিতে হচ্ছিল তাঁকে। সেকারণেই মানসিক চাপে ভুগছিলেন। ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট (Suicide Note) উদ্ধার হয়েছে। সেই চিঠির বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিবারেরে সদস্যরা বলছেন, শনিবার সন্ধে সাড়ে আটটা নাগাদ একাধিকবার প্রিন্সির সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা হয়। কিন্তু ফোন ধরেননি তিনি। তাই তাঁরা হস্টেল ওয়ার্ডেনের (Hostel Warden) সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওয়ার্ডেন প্রিন্সির ঘরে পৌঁছে দেখেন, দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। অনেক ডাকাডাকির পরও কোনও সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে উঁকি দিতেই দেখা যায়, ঘরের ভিতরে ঝুলছেন পড়ুয়া। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে প্রিন্সি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। চিঠিতে লিখেছেন, বাবা-মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করছেন। পড়াশোনার ফল এবং পরিবারের উপর আর্থিক চাপ (Financial Burden) নিয়ে গভীর মানসিক যন্ত্রণার কথাও উল্লেখ করেছেন। নোটে লেখা রয়েছে, “Sorry Mummy Papa, I couldn’t meet your expectations।” পরিবারের জমানো টাকার উপর পড়াশোনার খরচ চাপানো নিয়ে অপরাধবোধের কথাও উল্লেখ করেছেন।
জানা যায়, প্রথম সেমিস্টারে পাঁচটি বিষয়ে ব্যাকলগ ছিল পড়ুয়ার। সেই পরীক্ষার প্রস্তুতিই চলছিল। পাশাপাশি সম্প্রতি সেমেস্টার ফি (Semester Fees) বাবদ প্রায় এক লক্ষ টাকা কিস্তিতে দেওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। হস্টেলের আবাসিক পড়ুয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীদের বয়ানও রেকর্ড করা হচ্ছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে।