তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, তাঁর হাতে লেখা কোনও পুরনো কাগজপত্র আছে কি না, যা দিয়ে তুলনা করা যাবে আত্মহত্যার নোটের সঙ্গে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 31 October 2025 18:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: NRC আতঙ্ক না কি অন্য কোনও রহস্য? প্রদীপ করের (Pradip Kar) মৃত্যু ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে শুক্রবার মৃতের আগরপাড়ার বাড়িতে যায় ফরেনসিক টিম (Forensic Team)। সুইসাইড নোটটি আদৌ প্রদীপ করের লেখা (handwriting) কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। ইথিমধ্যে প্রদীপবাবুর ঘর থেকে খাতা, ডায়েরি, ব্যবহৃত পেন বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, তাঁর হাতে লেখা কোনও পুরনো কাগজপত্র আছে কি না, যা দিয়ে তুলনা করা যাবে আত্মহত্যার নোটের সঙ্গে।
ইতিমধ্যে পরিবার সূত্রে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রদীপ করের ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল। ‘৮০-র দশকে এক দুর্ঘটনায় ঘটে সেই ঘটনা। এরপর তিনি একটি দোকান চালাতেন ঠিকই, কিন্তু লিখতেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। পরিবারের কেউই বলেননি, তাঁকে সাম্প্রতিক কালে লিখতে দেখেছেন।
এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই মৃত্যু ঘিরে আরও জোরাল হয়েছে ধোঁয়াশা। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কেই আত্মঘাতী হয়েছেন প্রদীপবাবু। পাল্টা হিসেবে বিজেপির অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়—, খুনের ঘটনা সাজানো হচ্ছে আত্মহত্যা বলে।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ দাবি করেছেন, “ঘরের জানালা ভাঙা ছিল, স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, কেউ জানালা দিয়ে ঢুকে খুন করেছে।”
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রদীপ করের মৃত্যুতে ফরেনসিক তদন্তের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে তদ্নতভার দিলেই প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।
এ ব্যাপারে রাজ্যের শাসকদলকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “এটা পুরো সাজানো কেস। এখন কেউ বজ্রপাতে মরলেও বলা হচ্ছে, NRC ভয়ে আত্মহত্যা করেছে! দেশের ১২টা রাজ্যে কিছু হচ্ছে না, কেবল বাংলাতেই কেন?”
তাঁর আরও দাবি, “হাতের লেখা প্রদীপ করের নয়। রাজ্য সরকারের ফরেনসিক রিপোর্ট তো সব বানানো।”
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই প্রদীপ করের ঘর থেকে নোট, খাতা, এবং কলম সংগ্রহ করে নমুনা পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টই এখন মূল চাবিকাঠি।
তদন্তকারীদের মতে, “দেহে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন নেই, তবে কিছুই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।”