প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একটি 'ভাল করে সাজানো এবং পরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের' কথা, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, লগ্নিকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

অনিল আম্বানি
শেষ আপডেট: 24 July 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনিল আম্বানির বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে একগুচ্ছ এফআইআর দায়েরের পর এবার সক্রিয় হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দিল্লি ও মুম্বই-সহ মোট ৩৫টি জায়গায় চলছে তল্লাশি অভিযান। ইডি সূত্রে খবর, অনিল আম্বানির সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে টাকা তছরুপ ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে এই অভিযান। ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি সংস্থা ও ২৫ জন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একটি 'ভাল করে সাজানো এবং পরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের' কথা, যার মাধ্যমে ব্যাঙ্ক, লগ্নিকারী সংস্থা এবং সাধারণ জনগণের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইডি-র দাবি, সংস্থাগুলিকে ব্যাঙ্ক থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ পাইয়ে দিতে ঘুষ দেওয়া হয়েছিল ব্যাঙ্কের শীর্ষ আধিকারিকদের।
বিশেষ করে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ইয়েস ব্যাঙ্কের তরফে অনিলের সংস্থা রাগা (RAAGA) গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানিকে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। ইডি-র দাবি, এই ঋণ দেওয়ার আগে ইয়েস ব্যাঙ্কের তৎকালীন প্রোমোটাররা নিজেদের ব্যক্তিগত সংস্থাগুলিতে টাকা পেয়েছিলেন, যেটি ছিল একটি বেআইনি ‘কুইড প্রো কো’ চুক্তি।
তদন্তে উঠে এসেছে—
ইয়েস ব্যাঙ্কের তৎকালীন প্রোমোটার ও সিনিয়র আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ইডি সন্দেহ করছে, তারা ব্যক্তিগত লাভের জন্য এই ঋণ অনুমোদন করেছেন।
তদন্তে সহায়তা করছে একাধিক সংস্থা, ন্যাশনাল হাউজিং ব্যাঙ্ক (NHB),সিকিওরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (SEBI),ন্যাশনাল ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং অথরিটি (NFRA),ব্যাঙ্ক অফ বরোদা।
সেবি তাদের রিপোর্টে রিলায়্যান্স হোম ফিনান্স লিমিটেডের (RHFL) বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের কথা জানিয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে যেখানে কর্পোরেট ঋণ ছিল ৩,৭৪২ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮-১৯-এ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮,৬৭০ কোটিতে।
অন্যদিকে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) অনিল আম্বানির রিলায়্যান্স কমিউনিকেশনস (RCom) ও তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ‘ফ্রড অ্যাকাউন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। যদিও আগেও, ২০২০ সালের নভেম্বরে একইভাবে ‘ফ্রড’ ঘোষণা করে এসবিআই এবং ২০২১-এর ৫ জানুয়ারি সিবিআই-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করে। পরদিন দিল্লি হাইকোর্ট সেই অভিযোগে স্থগিতাদেশ দেয়।
এতদিন পর ফের একবার রিলায়্যান্স গ্রুপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার বড়সড় তৎপরতা নিয়ে উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন।