অভিযোগ, ইডির দল বাড়িতে ঢুকতে গেলে এলবি সিংহ তাঁর পোষা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেন, যাতে তদন্তকারী দল ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 21 November 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঝাড়খণ্ড–পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে বড় অভিযান চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি।(Ed raid against coal mafia)। শুক্রবার ভোর থেকে দুটি রাজ্যে মিলিয়ে ৪০টিরও বেশি জায়গায় অবৈধ কয়লা খনন, চুরি, পরিবহন এবং বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে এই তল্লাশি চলছে।
ধানবাদে আলোড়ন— দেব প্রভা কোম্পানির ১৮ জায়গায় হানা
ধানবাদে ইডির প্রধান নিশানায় রয়েছে দেব প্রভা কোম্পানি এবং এর মালিক তথা বহু বিতর্কিত কয়লা ঠিকাদার লালবাবু সিংহ ওরফে এলবি সিংহ। ভোরবেলা এলবি সিংহের বাড়ি ‘দেব ভিলা’ সহ ধনবাদে তাঁর সঙ্গে জড়িত মোট ১৮টি স্থানে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা।
সূত্রমতে, BCCL–এর আউটসোর্সিং কাজ, অনিয়মিত চুক্তি, অবৈধ কয়লা বেচাকেনা এবং সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনই এই তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
তল্লাশি বাধা দিতে ‘পোষা কুকুর’ ছেড়ে দেন এলবি সিংহ
ধানবাদে তল্লাশির সময় ইডি অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। অভিযোগ, ইডির দল বাড়িতে ঢুকতে গেলে এলবি সিংহ তাঁর পোষা কুকুরগুলোকে ছেড়ে দেন, যাতে তদন্তকারী দল ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। তিনি নিজেও কয়েক ঘণ্টা বাড়ির ভেতর থেকেই গেট খোলেননি বলে তদন্ত সংস্থার দাবি।
অবশেষে নিরাপত্তা কর্মীদের সাহায্যে ইডি বাড়িতে প্রবেশ করে এবং প্রয়োজনীয় নথি ও ডিজিটাল ডেটা বাজেয়াপ্ত করে বলে জানা যাচ্ছে। ধনবাদের পাশাপাশি ইডি-র রাঁচি জোনাল অফিসের নেতৃত্বে ঝাড়খণ্ডে মোট ১৮টি জায়গায় তল্লাশি চলছে।
তদন্তের আওতায় এসেছে বেশ কয়েক জনের নাম—অনিল গয়াল, সঞ্জয় উদ্যোগ, অমর মণ্ডল, এলবি সিংহের আরও কয়েকটি ব্যবসায়িক অংশীদার। অভিযোগ, এই সমস্ত জায়গা থেকেই বহুদিন ধরে বৃহৎ পরিমাণ কয়লা চুরি ও পাচার চক্র চালানো হচ্ছিল।
পশ্চিমবঙ্গে ২৪টি স্থানে অভিযান
পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও ইডি ২৪টি জায়গায় চিরুনি তল্লাশি চালায়। দুদিন আগে কলকাতায় ইডি-র একটি বড় টিম এসে পৌঁছেছে বলে আগেই জানা গেছিল। এবার কারণ স্পষ্ট হল। ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে দুর্গাপুর, পুরুলিয়া, হাওড়া ও কলকাতার বিভিন্ন ঠিকানায়। যাঁদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাঁরা হলেন, নরেন্দ্র খারকা, অনিল গয়াল, যুধিষ্ঠির ঘোষ, কৃষ্ণ মুরারি কয়াল।
ইডি সূত্রে জানা যায়, তল্লাশি চালানো হয়েছে বাড়ি, অফিস, কোক প্ল্যান্ট থেকে শুরু করে অবৈধ টোল সংগ্রহকারী বুথ সহ বহু জায়গায়। পর্যন্ত। এখনও পর্যন্ত এই অভিযানে ইডির হাতে এসেছে বড় অঙ্কের অঘোষিত নগদ টাকা, সোনার গয়না, ডিজিটাল রেকর্ড ও অবৈধ লেনদেনের নথি। তদন্ত সংস্থার দাবি, অবৈধ কয়লা ব্যবসার জাল এতটাই বিস্তৃত যে সরকারি কোষাগারের শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ইডি কর্তাদের কথায় “দুই রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা কয়লা মাফিয়া চক্রকে লক্ষ্য করে সমন্বিত অভিযান চালানো হয়েছে। অর্থপাচারের পথ, লেনদেনের নেটওয়ার্ক এবং চুরি করা কয়লা পরিবহনের রুট ট্র্যাক করা হচ্ছে।”