চেন্নাই-ভিত্তিক কোম্পানি আরকেএম পাওয়ারজেন প্রাইভেট লিমিটেড-এর ৯০১ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) মুক্ত করার নির্দেশ দিতে গিয়েই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 July 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাহুল গান্ধী, মোদী বা কোনও দুঁদে রাজনীতিবিদ নন, এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে কড়া ভাষায় তুলোধনা করল মাদ্রাজ হাইকোর্ট। তাদের মন্তব্য, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) কোনও “সুপার কপ” নয়, যে যা খুশি তদন্ত করবে, বা কোনও “লুটে বেড়ানো অস্ত্র” (loitering munition) নয় যে ইচ্ছেমতো আক্রমণ চালাতে পারে।
চেন্নাই-ভিত্তিক কোম্পানি আরকেএম পাওয়ারজেন প্রাইভেট লিমিটেড-এর ৯০১ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) মুক্ত করার নির্দেশ দিতে গিয়েই এই পর্যবেক্ষণ আদালতের। জানুয়ারির ৩১ তারিখে ইডি ওই টাকা ফ্রিজ করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয় সংস্থাটি।
ঘটনা হল, ২০০৬ সালে ছত্তীসগড়ে একটি তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প চালানোর জন্য কয়লা ব্লক বরাদ্দ নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছিল সিবিআই। সেই মামলার ভিত্তিতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর অধীনে ইডি ২০১৪ সালে একটি ইসিআইআর রেজিস্টার করে।
২০১৭ সালে সিবিআই কোনও অনিয়ম না পেয়ে ক্লোজার রিপোর্ট দেয়, যদিও বিশেষ আদালত সেটি গ্রহণ করেনি এবং পরিবেশ ছাড়পত্র সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দেয়। এরপর ২০২৩ সালের অগস্টে সিবিআই একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে প্রতারণা ও দুর্নীতির কথা বলা হয়েছিল।
এই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইডি হানা দেয় এবং ৯০১ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ফ্রিজ করে দেয়। এই পদক্ষেপকে অযৌক্তিক বলে আদালত জানিয়েছে, শুধুমাত্র চার্জশিটের ভিত্তিতে ইডি কোনও অপরাধের ‘ভূতের’ উপর ভিত্তি করে তদন্ত চালাতে পারে না।
আদালতের মন্তব্য, “ইডি কোনও ভেসে বেড়ানো ড্রোন নয় যে, যে কোনও অপরাধে আক্রমণ চালাতে পারে।” তারা আরও বলেছে, পিএমএলএ অনুসারে কোনও অপরাধের তদন্ত করতে গেলে প্রথমে প্রমাণিত হওয়া উচিত যে সেটি আইন অনুযায়ী অপরাধ এবং সেই অপরাধ থেকে অর্থ উপার্জন হয়েছে।
আদালতের তুলনা অনুযায়ী, ইডি যেন এক ‘লিম্পেট মাইন’ যা জাহাজে লাগানো থাকে। যদি জাহাজই না থাকে, তাহলে ওই মাইন কার্যকর হতে পারে না। সেই ‘জাহাজ’ হল পিএমএলএ অনুযায়ী অপরাধ এবং সেই অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ।
আদালত এই মামলায় ইডির পদক্ষেপ ‘অতিরিক্ত ও আইন বহির্ভূত’ বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, ফিক্সড ডিপোজিট ফ্রিজ করার আদেশ বাতিল করা হল।