সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য ২৯টি শিল্পক্ষেত্রেও নারীদের এই সুযোগ মিলবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 13 November 2025 13:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নারীদের কর্মসংস্থানে (Women Employement) নতুন দিগন্ত খুলল উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh)। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার (Yogi Adityanath Govt) রাজ্যের মহিলাদের জন্য জারি করল ঐতিহাসিক নির্দেশিকা। এখন থেকে রাত ৭টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত (Night Shift) নারীরা কাজ করতে পারবেন, যদি তাঁরা নিজে থেকে সম্মতি দেন।
সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিপজ্জনক বা ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য ২৯টি শিল্পক্ষেত্রেও নারীদের এই সুযোগ মিলবে। কর্মক্ষেত্রে নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার (State Govt)।
নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, রাতে কর্মরত মহিলা কর্মীদের জন্য নিয়োগকর্তাদের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে। অফিস (Office) ও কারখানায় (Factory) সিসিটিভি নজরদারি (CCTV), নিরাপত্তারক্ষী (Security), এবং বাড়ি ফেরার জন্য নির্ভরযোগ্য পরিবহন সুবিধা থাকা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, রাতে কাজের জন্য দেওয়া হবে দ্বিগুণ বেতন।
প্রতি সপ্তাহে ছয় দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন মহিলা কর্মীরা। এছাড়া অতিরিক্ত কাজের সীমা (Extra Duty Hour) আগের ৭৫ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১৪৪ ঘণ্টা করা হয়েছে, যা দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিকসহ প্রদান করতে হবে। এই উদ্যোগকে নারীর আর্থিক স্বাধীনতার (Women Empowerment) পথে এক বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
এর আগে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তও (Delhi CM Rekha Gupta) রাজধানীতে দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে মহিলাদের রাতের শিফটে কাজের অনুমতি দেন। তিনি বলেছিলেন, “মহিলারা রাত ৯টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবেন না - এই ধারণাটা বহু পুরনো। আমরা সেই বাধা ভেঙেছি। এখন তাঁরা নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নিতে পারবেন।”
উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারের এই উদ্যোগও সেই দিকেই এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি - যেখানে নারীর নিরাপত্তা ও সমান সুযোগকে একইসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে পরপর এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা নারী নিরাপত্তা নিয়ে বহু প্রশ্ন তোলে। বিশেষ করে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পর থেকেই এই ইস্যুতে চাপে পড়েছে রাজ্য সরকার। রাতের শহরের নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা বাস্তবে যে খুব একটা কার্যকর হয়নি তার প্রমাণ মেলে অনেক ক্ষেত্রেই। সে দিক থেকে উত্তরপ্রদেশ সরকারের এই পদক্ষেপ বাংলার সরকারকেও যে খোঁচা দিল তা মনে করছেন অনেকেই।