১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার স্মরণে ভারতবাসীকে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক টানাপড়েন সত্ত্বেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আলাদা গুরুত্ব দিতে চায় ওয়াশিংটন।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 26 January 2026 16:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে (Republic Day 2026) শুভেচ্ছাবার্তায় দুই দেশের গণতান্ত্রিক বন্ধনের কথা বিশেষ ভাবে তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ককে (US India Relation) ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক শুধু অতীতের নয়, ভবিষ্যতের পথচলাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার গোটা দেশ যখন প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনে ব্যস্ত, ঠিক সেই দিনই ১৯৫০ সালে ভারতের সংবিধান কার্যকর হওয়ার স্মরণে ভারতবাসীকে অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক টানাপড়েন সত্ত্বেও ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের (US India Relation) গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আলাদা গুরুত্ব দিতে চায় ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প তাঁর বার্তায় বলেন, “আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে ভারত সরকার ও ভারতবাসীকে ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা। বিশ্বের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে।” এই মন্তব্য মার্কিন দূতাবাসের তরফে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশ করা হয়।
“On behalf of the people of the United States, I extend my heartfelt congratulations to the government and people of India as you celebrate your 77th Republic Day. The United States and India share a historic bond as the world’s oldest and largest democracies.” - President… pic.twitter.com/oC9x3Qs9y3
— U.S. Embassy India (@USAndIndia) January 26, 2026
এর আগেই প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে শুভেচ্ছা জানান ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। প্রথমবারের মতো দিল্লির কর্তব্য পথে (Kartavya Path) প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে (Republic Day Parade) উপস্থিত থাকার অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘গর্বের’ বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক চেতনার উদ্যাপন এই কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্রদূত গোর তাঁর এক্স পোস্টে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেন আকাশে উড়ে যাওয়া মার্কিন প্রযুক্তিতে তৈরি বিমানগুলির কথা। তাঁর ভাষায়, ভারতীয় আকাশে মার্কিন তৈরি বিমান উড়তে দেখা ভারত-আমেরিকা কৌশলগত অংশীদারিত্বের শক্তিশালী প্রতীক। এই দৃশ্য দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতার দিকটি আরও স্পষ্ট করেছে বলে তাঁর মন্তব্য।
তবে এই শুভেচ্ছাবার্তা ও সৌহার্দ্যের ছবির আড়ালে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপড়েনও অস্বীকার করা যায় না। গত এক বছরে দুই দেশের সম্পর্ক ওঠানামার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, যার বড় কারণ ছিল ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক আরোপ। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে শুল্ক বাড়ানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছিল।
এই প্রেক্ষিতে ভারত আগেই জানিয়ে দিয়েছে, মার্কিন শুল্ক আরোপকে তারা অযৌক্তিক বলে মনে করে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, কোনও বড় অর্থনীতির মতোই ভারত তার জাতীয় স্বার্থ ও আর্থিক নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
গত বছরের অগস্টে প্রথম দফায় শুল্ক ঘোষণার পর ভারতের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। একই সঙ্গে জানানো হয়, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্তরে কঠোর অবস্থান নিতে পিছপা হবে না ভারত।
এই সমস্ত টানাপড়েনের মাঝেও প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছাবার্তায় গণতন্ত্র ও পারস্পরিক সম্পর্কের উপর জোর দেওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।