সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মঞ্চে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আনন্দ উপভোগ করলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা ও নেত্রী।

এদিন প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মোদী মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই দুই ইউরোপীয় ঐক্য সংগঠনের নেতাকে প্যারেডের বিষয়বস্তু বোঝাতে থাকেন।
শেষ আপডেট: 26 January 2026 13:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাধারণতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মঞ্চে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আনন্দ উপভোগ করলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা ও নেত্রী। আজ ও আগামিকাল ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে হতে চলেছে ষোড়শ ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্মেলন। সেখানে সহ পৌরোহিত্য করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সঙ্গে থাকবেন ইউরোপীয় পরিষদের সভাপতি অ্যান্তোনিও লুই সান্তোস দা কোস্তা ও ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন দার লেয়েন। এদিন প্রায় ঘণ্টা দেড়েকের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে মোদী মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই দুই ইউরোপীয় ঐক্য সংগঠনের নেতাকে প্যারেডের বিষয়বস্তু বোঝাতে থাকেন। দোভাষীর সাহায্য নিয়ে তাঁদের প্রতিটি বাহিনী, অস্ত্রশস্ত্র, সাংস্কৃতিক প্রদর্শনীর অর্থ ব্যাখ্যা করতে দেখা যায় মোদীকে। মোদীর হাতে ছিল কুচকাওয়াজের বর্ণনা সংবলিত সেনাবাহিনীর ছাপানো একটি বিবরণী পুস্তিকা।
দৃশ্যত স্বাভাবিক ও সাধারণ মনে হলেও সম্পূর্ণ দেশী পোশাকে, রাজকীয় পাগড়িতে আপাদমস্তক মোড়া মোদীর শরীরী ভাষাই ছিল আন্তর্জাতিক বার্তাবহ। কারণ, ভারতের সঙ্গে আর দুদিনের মধ্যেই ইউরোপের ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি হতে চলেছে। যাতে করে ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে দেশের বাণিজ্যপথ একেবারে খুলে যাবে। আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে আর এককভাবে আমেরিকা কিংবা চিনের মুখাপেক্ষী থাকতে হবে না। উপরন্তু, আমেরিকা ও চিন নির্ভর পাকিস্তান, বাংলাদেশকেও তুড়ি মেরে মুক্ত বাণিজ্যের পথে হাঁটতে শুরু করবে ভারত।
এই পরিপ্রেক্ষিতে এদিনের কুচকাওয়াজ মঞ্চটিকে বৈশ্বিক চাপের কাছে মোদীর এক বিশেষ বার্তা বলে মনে করছে পর্যবেক্ষক মহল। বিশেষ করে এই চুক্তির ঘোরতর বিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনের শি জিনপিং। এই চুক্তির ফলে দেশে আমদানি করা ইউরোপীয় গাড়ির দাম অনেক কমে যাবে। আমদানি শুল্ক ১১০ শতাংশ থেকে কমে এখনই ৪০ শতাংশে এবং ধীরে ধীরে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার চুক্তি হতে চলেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিষয়ে আরও সহজ শর্তে বাণিজ্য দরজা খুলে যাবে। ফলে, নয়াদিল্লির মুখে মার্কিন চাপের অনেকটাই সুরাহা মিলবে। অন্যদিকে, ইউরোপকে চিনের উপর চাপ সৃষ্টি খুবই সহজ হয়ে যাবে।
সেসব দিক থেকে কুচকাওয়াজের মঞ্চকে ব্যবহার করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই নেতৃত্বকে পাশে দাঁড় করিয়ে মোদীর এই দাবার চাল অনেকাংশেই সফল হতে চলেছে। কারণ টিভির পর্দায় যখনই বারবার তিন শীর্ষ নেতাকে পাশাপাশি আনন্দঘন, হাসিহাসি মুখে এক ফ্রেমে ধরা হচ্ছিল, তখনই স্নায়ুর চাপ বেড়েছে বেজিং ও ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতাদের।