এটিএস সূত্রে খবর, ধৃত চিকিৎসকের নাম ডা: আহমেদ মোহিউদ্দিন সাইয়েদ (৩৫)। হায়দরাবাদের বাসিন্দা তিনি, এবং চিন থেকে এমবিবিএস পাশ করা।

আমদাবাদের নারোদা ফলের বাজার এবং লখনউয়ের আরএসএস (RSS) দফতরে রেকি চালান।
শেষ আপডেট: 10 November 2025 13:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুজরাতের (Gujarat) অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর হাতে ধরা পড়লেন এক চিকিৎসক— যিনি নাকি ‘রাইসিন’ নামে প্রাণঘাতী বিষ তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে, তিনি গত ছ’মাসে দিল্লির আজাদপুর মণ্ডি, আমদাবাদের নারোদা ফলের বাজার এবং লখনউয়ের আরএসএস (RSS) দফতরে রেকি চালান। সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল এই ভিড়ভাট্টার জায়গাগুলিকে।
এটিএস সূত্রে খবর, ধৃত চিকিৎসকের নাম ডা: আহমেদ মোহিউদ্দিন সাইয়েদ (৩৫)। হায়দরাবাদের বাসিন্দা তিনি, এবং চিন থেকে এমবিবিএস পাশ করা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি ক্যাস্টর অয়েল থেকে রাইসিন নিষ্কাশনের প্রাথমিক গবেষণা চালাচ্ছিলেন। এই প্রোটিনজাত রাসায়নিকটি অত্যন্ত বিষাক্ত, এবং অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী হতে পারে।
এটিএস-এর দাবি, “ডা: সাইয়েদ বড়সড় জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। সেই উদ্দেশ্যে তিনি বিষ প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল এবং গবেষণার উপকরণ সংগ্রহ করেছিলেন।”
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সাইয়েদ ছিলেন আইসিসের খোরাসান শাখা (ISKP)-এর সদস্য আবু খাদিমের সঙ্গে যোগাযোগে। শুধু তাই নয়, তিনি অর্থ জোগাড় ও নতুন সদস্য নিয়োগের দায়িত্বও নিয়েছিলেন বলে খবর।
গত ৭ নভেম্বর গান্ধী নগরের আদালাজ এলাকা থেকে সাইয়েদকে গ্রেফতার করে এটিএস। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় দু'টি গ্লক পিস্তল, একটি বেরেটা পিস্তল, ৩০ রাউন্ড গুলি এবং ৪ লিটার ক্যাস্টর অয়েল।
এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ থেকে আরও দু’জন আইসিস জঙ্গি— আজাদ সুলেমান শেখ ও মহম্মদ সুহেল মহম্মদ সলিমকে গ্রেফতার করেছে এটিএস। তিনজন মিলে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় এক ‘স্লিপার সেল’-এর অংশ ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এটিএস এবং কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি এখন জব্দ করা রাসায়নিক ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছে, আদৌ কি রাইসিন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল কিনা তা জানতে। গুজরাত এটিএস-এর ডিআইজি সুনীল জোশী সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “ডা: আহমেদ মোহিউদ্দিন সাইয়েদ অত্যন্ত শিক্ষিত হলেও বিপজ্জনকভাবে মৌলবাদী চিন্তাধারায় প্রভাবিত। তিনি বড়সড় জঙ্গি ষড়যন্ত্রের ছক কষছিলেন।”
গত ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাতে পাকিস্তানকে দায়ী করে একাধিক পদক্ষেপ করেছিল ভারত। পাকিস্তানি জঙ্গিরাই ওই হামলার নেপথ্যে ছিল বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। মাস তিনেক পরে পহেলগাম হামলায় জড়িত জঙ্গিদের খুঁজে হত্যা করে ভারতীয় সেনা। তবে পহেলগামকাণ্ডের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা আধিকারিক এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গুজরাতে আইএস-যোগ সন্দেহে গ্রেফতারিও এটিএসের সেই তৎপরতার ফল।