দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণে প্রাণ গেল দিনেশ মিশ্রর। দীপাবলির পর আর ঘরে ফেরা হল না তাঁর।

দিল্লির লালকেল্লা বিস্ফোরণ
শেষ আপডেট: 12 November 2025 17:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নং ১-এর কাছে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। সন্ধ্যা ৬:৫০ মিনিট নাগাদ একটি হুন্ডাই আই২০ (Hyundai i20) গাড়িতে এই বিস্ফোরণ ঘটে, যাতে ১০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। নিহতদের মধ্যে উত্তর প্রদেশের শ্রাবস্তী জেলার বাসিন্দা দীনেশ মিশ্র (৩৪)-এর মৃত্যু তাঁর পরিবারে নেমে এনেছে চরম শোক।
চাঁদনি চক সংলগ্ন লালকেল্লা এলাকায় সিগনালে গাড়িটি থামার সময়ই এই বিস্ফোরণ ঘটে। এটিকে একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে গাড়ির অংশ এবং গ্যাস সিলিন্ডারের টুকরোসহ ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করেছে। কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, তা জানতে তদন্তভার গ্রহণ করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (NIA)।
গণেশপুর গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ মিশ্র গত কয়েক বছর ধরে দিল্লিতে একটি প্রিন্টিং প্রেসে কাজ করতেন। তাঁর আয়েই চলত বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী এবং তিন সন্তান। ১০ বছর বয়সী ছেলে তাঁর সঙ্গে দিল্লিতে থাকত, আর স্ত্রী, দুই ছোট মেয়ে এবং বাবা-মা থাকতেন গ্রামে।
বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দীনেশ মিশ্রের পরিবারে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়, কারণ বিস্ফোরণস্থল তাঁর কর্মস্থলের কাছাকাছি ছিল। দীনেশের বড় ভাই রাজেশ কুমার, আরেক ভাই গুড্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গুড্ডু ঘটনাস্থলে পৌঁছেই জানতে পারেন বিস্ফোরণে দীনেশ মারা গেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যখন দীনেশের নিথর দেহ পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছায়, তখন গোটা গ্রাম শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। দীনেশের স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন, আর বাবা-মা ও সন্তানেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাত্র ক'দিন আগেই দীনেশ বাড়িতে ফিরেছিলেন পরিবারের সঙ্গে দীপাবলি কাটাতে। কেউই জানত না, সেটাই হবে তাঁর জীবনের শেষ দিওয়ালি।
তদন্তে জানা গেছে, এই হামলার সঙ্গে ফরিদাবাদ মডিউলের একদল ডাক্তারের যোগসূত্র রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ গাড়িটি হামলার মাত্র ১১ দিন আগে, ২৯ অক্টোবর, ডাক্তার মোহাম্মদ উমর নামের এক ব্যক্তি কিনেছিলেন, যিনি বিস্ফোরণটি ঘটান।