রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রথম পরিবারের গার্হস্থ্য বিবাদের রাজ্যের রাজনীতি ভোটের মুখে জটিল আবর্তে জড়িয়েছে।

এর জবাবে খোলা ময়দানে যুদ্ধে নেমে পড়েছেন রোহিণী।
শেষ আপডেট: 26 September 2025 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিহার বিধানসভা ভোটের ঠিক মুখে পাটলিপুত্রের ‘গরিবোঁ কা মসিহা’র ‘কিডনি’ রাজনৈতিক বিতর্ক ঘনিয়ে তুলেছে। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রথম পরিবারের গার্হস্থ্য বিবাদের রাজ্যের রাজনীতি ভোটের মুখে জটিল আবর্তে জড়িয়েছে। যাতে ইতিমধ্যেই ধুনো দিতে শুরু করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি ও নীতীশ কুমারের সংযুক্ত জনতা দল। জটিলতার সূত্রপাত রাষ্ট্রীয় জনতা দলের বর্তমানে বকলমা শীর্ষ নেতা, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদবের ছায়াসঙ্গী সঞ্জয় যাদবকে কেন্দ্র করে। সঞ্জয় যাদব হলেন তেজস্বীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু, হরিয়ানায় জন্ম হলেও আরজেডির রাজ্যসভা সদস্য। তিনি নাকি কিছুদিন ধরে গুজব রটাচ্ছেন যে, লালুপ্রসাদ যাদবের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তাঁর বড় মেয়ে রোহিণী আচার্য কিডনি দান করেননি। আর তা নিয়েই যদুবংশে ঝামেলা লেগে গিয়েছে।
এর জবাবে খোলা ময়দানে যুদ্ধে নেমে পড়েছেন রোহিণী। প্রথম প্রতিক্রিয়া হিসেবে তিনি হঠাৎই আরজেডি, লালুপ্রসাদ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের এক্স হ্যান্ডলকে আনফলো করে দিয়েছেন। সেই সঙ্গে একটি আবেগপূর্ণ পোস্ট করেছেন। এমনকী দল ও তাঁর ভাই তেজস্বীর বিরুদ্ধেও মুখ খুলেছেন। গুজব ও অভিযোগ ভেসে বেড়াচ্ছে যে, রোহিণী নাকি ২০২২ সালে তাঁর বাবার অসুস্থতার সময় আদৌ কিডনি দান করেননি।
রোহিণী এখন সবাইকে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে বলেছেন। এর মধ্যে ঘি ছড়িয়েছেন লালুর ছোট ছেলে সদ্য দল থেকে বহিষ্কৃত ও অন্য একটি দলে যোগ দেওয়া রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তেজপ্রতাপ যাদব। রোহিণীর প্রিয় তেজুভাইয়া খোলাখুলি মাতৃসমা দিদির পক্ষ নিয়ে বলেছেন, যে তাঁর দিদিকে অপমানের চেষ্টা করবে, তার বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের সুদর্শন চক্র চালিয়ে দেবেন তিনি।
তেজস্বীর আশকারায় রাজ্যসভা এমপি সঞ্জয় যাদবের প্রতিপত্তির বাড়বাড়ন্তে যাদব পরিবার ও দলের অনেকেই অসন্তুষ্ট। তাই ‘পরিবারের সম্মানরক্ষা’য় রোহিণী নিজেকে গুটিয়ে নিতে চাইছেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন মধ্যবয়সি মেডিক্যাল গ্র্যাজুয়েট রোহিণী বাবাকে কিডনি দান করেছিলেন তখন তাঁকে দেবীর আসনে বসিয়েছিলেন সবাই। লালুর কট্টর নিন্দুক বিজেপি এমপি গিরিরাজ সিং পর্যন্ত রোহিণীর দানকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দৃষ্টান্ত বলে বর্ণনা করেছিলেন।
তারপরেই বিহারের সরন থেকে রোহিণীকে লোকসভা ভোটে প্রার্থী করে আরজেডি। কিন্তু, তিনি বিজেপি প্রার্থী রাজীবপ্রতাপ রুডির কাছে হেরে যান। এখন নাকি শোনা যাচ্ছে, তিনি বিধানসভা ভোটে একটি নিশ্চিত জয়ের আসন দাবি করছেন। আর এ নিয়ে সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রোহিণী। রোহিণী লালু, তেজ, তেজস্বী ও আরজেডিকে আনফলো করে দিয়ে লিখেছেন, আমি আমার কর্তব্য ও ধর্ম পালন করেছি। মেয়ে ও বোন হিসেবে আমার যা যা করার ছিল, সব করেছি। এরপরেও আমি তা করে যাব। আমি কোনওদিন পদ বা ক্ষমতার লোভে কিছু করিনি। আমার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাও নেই। আমার কাছে আত্মসম্মানই সবার উপরে।
তিনি আরও লিখেছেন, যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে, আমি বাবাকে কিডনি দান করিনি, তাহলে আমি রাজনীতি ও প্রচারের আলো থেকে সরে দাঁড়াব। আমি চ্যালেঞ্জ করছি। আর যারা এটা প্রমাণ করতে পারবে না, তারা যেন প্রকাশ্যে ক্ষমা চায়। শুধু আমার কাছে নয়, দেশের প্রতিটি মা, বোন, মেয়ের কাছে ক্ষমা চাক তারা।
রোহিণীর এর বক্তব্যের জবাবে আরজেডি এমপি সঞ্জয় যাদব বলেন, রোহিণীদিদি কেন এসব বলেছেন তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। দল ঐক্যবদ্ধ ছিল, আছে, থাকবে। এর মধ্যে কোনও সংশয়, দ্বিধা ও মতানৈক্য নেই। আরজেডির মধ্যে কোনও ভুল বোঝাবুঝি নেই, হবেও না। বিজেপি কোনও দিন বুঝবে না, রোহিণী দিদির আত্মত্যাগের কথা। যারা গুজব রটাচ্ছে, তারা সফল হবে না। আমাদের সকলেরই একটাই লক্ষ্য বিজেপিকে হারিয়ে এই সরকারের অপসারণ। বিজেপি ও তার লেজুড়দের রাজ্যের মানুষ সেই শিক্ষাই দেবে।