ছোট থেকেই অনুরাগ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তবে পরিবারের নির্দেশ অনুযায়ী পড়াশোনার চাপ সামলাতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভুগছিলেন তিনি।

মৃত কিশোর
শেষ আপডেট: 24 September 2025 13:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনেকের কাছে এটি স্বপ্নপূরণ। কিন্তু অনুরাগ অনিল বোরকার নামের ১৯ বছরের ছেলেটির কাছে এটিই ছিল দুঃস্বপ্ন। তাই ডাক্তার (Doctor) হওয়ার আগেই আত্মহত্যার (Suicide) পথ বেছে নিলেন তিনি! এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই বিরাট প্রশ্ন তুলে দিল মানসিক চাহিদা নিয়ে।
মাত্র ১৯ বছর বয়সে আত্মঘাতী হলেন মহারাষ্ট্রের (Maharastra) চন্দ্রপুর জেলার নবওয়ারগাও-এর বাসিন্দা অনুরাগ অনিল বোরকার। নিট পরীক্ষায় (NEET Exam) প্রায় সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েও চিকিৎসক হতে চাইছিলেন না তিনি। তাই আত্মহত্যার আগে চিরকুটে লিখে গেছেন কিশোর।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অনুরাগ সম্প্রতি নিট ইউজি ২০২৫ (NEET UG 2025) পরীক্ষায় ৯৯.৯৯ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছিলেন। অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক পান ১৪৭৫ (OBC Category)। যোগ্যতার ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশের গোরখপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি (MBBS Admission) নিশ্চিত ছিল তাঁর। মঙ্গলবারই ভর্তি প্রক্রিয়ার জন্য গোরখপুর রওনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, গন্তব্যে রওনা হওয়ার দিন সকালেই নিজ বাড়িতেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন অনুরাগ। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। যদিও পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নোটের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেনি। তবে জানা গেছে, চিরকুটে অনুরাগ স্পষ্ট লিখেছিলেন, তিনি ডাক্তার হতে চান না।
স্থানীয় মানুষের দাবি, ছোট থেকেই অনুরাগ মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তবে পরিবারের নির্দেশ অনুযায়ী পড়াশোনার চাপ সামলাতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর নিজের ডাক্তারি পড়ার কোনও ইচ্ছে ছিল না। তাই পরিবারের ইচ্ছেতেই মেডিক্যালে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি চলছিল বলে তাঁদের ধারণা।
ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। তাঁরা জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ ও নোটের বিষয়বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিবারের সদস্য ও কাছের বন্ধুদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে বলছেন, “এত বড় মেধা এত অল্প বয়সে ঝরে গেল, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতার চাপ ও পরিবার-সমাজের প্রত্যাশা আজকের প্রজন্মকে মানসিক দিক থেকে ভেঙে দিচ্ছে।