বছর ৪০-এর ওই আবেদনকারী জানিয়েছেন, প্রশ্নোত্তরে তিনি একটি সামান্য ভুল করেছিলেন। ফেরার বিমানযাত্রার প্রসঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলসের বদলে ভুল করে সান ফ্রান্সিসকোর নাম বলেন তিনি। বাকিটা সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকই দিয়েছিলেন বলে দাবি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 September 2025 12:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার ভিসা (American Visa) ইন্টারভিউতে মাত্র তিন মিনিট। তাতেই ‘না’। এক ভারতীয় কাস্টমস (Indian Customs Officer) অফিসার দাবি করেছেন, মার্কিন পর্যটক ভিসা (US tourist visa) চাওয়ার আবেদনপত্র খারিজ হয়ে গিয়েছে তাঁর। অথচ তাঁর সঞ্চয় এবং ব্যক্তিগত যোগসূত্র নাকি যথেষ্টই শক্তিশালী।
বছর ৪০-এর ওই আবেদনকারী জানিয়েছেন, প্রশ্নোত্তরে তিনি একটি সামান্য ভুল করেছিলেন। ফেরার বিমানযাত্রার প্রসঙ্গে লস অ্যাঞ্জেলসের বদলে ভুল করে সান ফ্রান্সিসকোর নাম বলেন তিনি। বাকিটা সব প্রশ্নের উত্তর সঠিকই দিয়েছিলেন বলে দাবি।
ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘‘আমার নিজের বাড়ি আছে, ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ রয়েছে, স্থায়ী চাকরি আছে, বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়রাও এখানে আছে। আমি নতুন করে কোথাও কিছু শুরু করার ইচ্ছেতেই নেই। শুধু ঘুরতে চেয়েছিলাম, জীবনটা উপভোগ করতে চেয়েছিলাম।’’ তিনি আরও বল, মার্কিন মুলুকেও তাঁর কোনও আত্মীয় নেই।
এর আগে তিনি দুবাই ও থাইল্যান্ড ঘুরে এসেছেন। এ বছর জাপান সফরের পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।
ভিসা খারিজ হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একজন লিখেছেন, ‘‘অনেক সময় এক লাখ টাকারও কম আয় থাকা মানুষদের ভিসা দেওয়া হয়েছে।’’ উত্তরে ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘‘অনেক বেশি আয়ের ও ভ্রমণ-অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষকেও ভিসা দেওয়া হয়নি। অথচ বলা হয়, বহু ভারতীয় সেখানে গিয়ে গা-ঢাকা দেয় বা অবৈধভাবে কাজ শুরু করে। তা হলে ভুল লোকদের ভিসা দিচ্ছেন আপনারাই।’’
আর একজন মন্তব্য করেছেন, ‘‘আবার আবেদন করুন। নিশ্চিত সফল হবেন।’’ সেই মন্তব্যের উত্তরে আবেদনকারী জানান, তিনি ২০২৭ সালের সফরের জন্য আবার ভিসা চাইবেন। তবে এ বার তিনি পরিকল্পনা বদলেছেন, আগামী জানুয়ারিতেই জাপান যাচ্ছেন।
এক জন আবার মজা করে লিখেছেন, ‘‘ডঙ্কি রুট ধরতে চান না তো?’’ জবাবে আবেদনকারী জানান, ‘‘আমি ভারতে খুশি আছি। মরিয়া হয়ে মার্কিন মুলুকে যাওয়ার কোনও দরকার নেই। তবে নিউ ইয়র্ক আর লাস ভেগাস একবার দেখতে চাইছিলাম।’’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) শুক্রবার এক মাইলফলক আদেশে সই করেছেন। যার ফলে এ বছর থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এইচ -ওয়ানবি (H-1B Visa Fee) ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে প্রতি আবেদনকারীর ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ফি জমা দিতে হবে ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ভিসা প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই বিপুল পরিমাণ অর্থ মেটাতে হবে আবেদনকারী ও তাদের নিয়োগকর্তাদের।
হোয়াইট হাউসের দাবি, এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন মার্কিন চাকরির বাজার সুরক্ষিত হবে, অন্যদিকে কেবলমাত্র সবচেয়ে দক্ষ বিদেশি কর্মীরাই তাদের দেশে প্রবেশ করতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই নীতি সর্বাধিক ধাক্কা দেবে ভারতীয়দের ওপর, আবার এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকারই উদ্ভাবনী শক্তি ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।