জাতীয় রাজনীতির তাই অনেকেই মনে করছেন, হয়তো এদিন সন্ধের পর এমন কিছু ঘটেছে যার ফলে তিনি ইস্তফা দিলেন বা দিতে বাধ্য হলেন।

শেষ আপডেট: 22 July 2025 00:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপ রাষ্ট্রপতি (Vice President) পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankar) আচমকা ইস্তফা নিয়ে যেন রহস্যের চাদর মুড়ে ফেলেছে রাজধানী দিল্লিকে। বা বলা ভাল জাতীয় রাজনীতিকে। কারণ অনেকেই অনেক কিছু মেলাতে পারছেন না।
সোমবার ২১ জুলাই রাতে হঠাৎ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মকে নাতিদীর্ঘ একটি চিঠি পাঠান ধনকড়। ওই চিঠিটিই ছিল উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে তাঁর ইস্তফা পত্র (Jagdeep Dhankar resigns)। চিঠিতে ধনকড় লেখেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। অথচ মজার ঘটনা হল, এদিন বিকেল ৩ টে বেজে ৫৩ মিনিটে তাঁর সচিবালয় থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানানো হয়, ২৩ জুলাই দুদিনের জন্য জয়পুর সফরে যাবেন উপ রাষ্ট্রপতি।

ধনকড়ের অনুমতি ছাড়া তাঁর সচিবালয়ের পক্ষে এই প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করা সম্ভব নয়। অর্থাৎ বিকেল ৪টে পর্যন্তও ঠিক ছিল তিনি উপ রাষ্ট্রপতি হিসাবে জয়পুরে যাবেন। জাতীয় রাজনীতির তাই অনেকেই মনে করছেন, হয়তো এদিন সন্ধের পর এমন কিছু ঘটেছে যার ফলে তিনি ইস্তফা দিলেন বা দিতে বাধ্য হলেন। নইলে এমন তো হতে পারে না যে সন্ধের পর তাঁর শরীর খারাপ হল আর ধনকড় ইস্তফার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন!
একই রকম সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ। ধনকড়ের ইস্তফাকে "অবাক করা ও ব্যাখ্যাতীত" বলে মন্তব্য করেছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।
সোমবার রাতে জয়রাম বলেন, “আজ বিকেল ৫টা নাগাদ আমি এবং আরও কিছু সাংসদ উপ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছি। এমনকি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টাতেও ফোনে কথা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই পদত্যাগের খবর! নিঃসন্দেহে ধনকড়জি নিজের স্বাস্থ্যের দিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সেটাই হওয়া উচিত। কিন্তু এই সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত পদত্যাগের পেছনে আরও কিছু বিষয় রয়েছে—এটা স্পষ্ট। যদিও এখন জল্পনার সময় নয়।”
জয়রাম রমেশ আরও বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১টায় সংসদের ব্যবসা উপদেষ্টা কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। তা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসাবে জগদীপ ধনকড়ই ডেকেছিলেন। বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে কিছু বড় ঘোষণা করার কথাও ছিল তাঁর। সেই প্রেক্ষিতে তাঁর এই আকস্মিক সরে দাঁড়ানো আরও বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে।
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদকের কথায়, “ধনকড়জি সরকার ও বিরোধীপক্ষ—দু’পক্ষকেই কঠোরভাবে দায়বদ্ধ রাখতে চেয়েছেন। আমরা তাঁর সুস্থতা কামনা করি। একইসঙ্গে অনুরোধ করি, তিনি যেন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীকেও অনুরোধ করি, জাতীয় স্বার্থে তাঁকে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো হোক। বিশেষত কৃষকসমাজ এই সিদ্ধান্ত বদলে স্বস্তি পাবে।”
জগদীপ ধনকড়ের পদত্যাগ ঘিরে আপাতত রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ও কৌতূহল তুঙ্গে। যদিও সরকারি তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে অতিরিক্ত কিছু জানানো হয়নি।