ঘন কুয়াশার দাপটে উত্তর ভারতে বিপর্যয়, হরিয়ানার রোহতকে একাধিক গাড়ির ধাক্কায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। পাঞ্জাবে গাড়ি খালে পড়ে মৃত দুই শিক্ষক।

হরিয়ানায় দুর্ঘটনা
শেষ আপডেট: 14 December 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকেই দিল্লির অবস্থা শোচনীয়। রবিবার সকালে দৃশ্যমানতা কমে যায়। বায়ু দূষণে নাজেহাল অবস্থা, দশকের অন্যতম খারাপ দিন, বলছেন আবহাওয়াবিদরা। এদিকে উত্তর ভারতের একাধিক এলাকায় শৈত্য প্রবাহ ও ঘন কুয়াশা। বিপর্যস্ত দিল্লি সংলগ্ন হরিয়ানাও (Haryana)। রবিবার সকালে একের পর এক দুর্ঘটনা হয়।
রোহতক জেলার (Rohtak) খারকরা গ্রামের (Kharkara Village) কাছে ট্রান্স-হরিয়ানা এক্সপ্রেসওয়েতে বড়সড় দুর্ঘটনা হয়। ট্রাক, বাস ও গাড়ি-সহ একের পর এক যানবাহনের একে অপরের সঙ্গে ধাক্কায় ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মারা গেছেন দু'জন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রবিবার সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ আম্বালা (Ambala) থেকে নারনৌল (Narnaul) সংযোগকারী এই হাইওয়েতে প্রথমে একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কা লাগে। কুয়াশায় দৃশ্যমানতা মারাত্মক কমে যাওয়ায় একে একে জড়িয়ে পড়ে ১০–১২টি গাড়ি। দুর্ঘটনার পর হাইওয়েতে তীব্র যানজট তৈরি হয়। আহতদের চিকিৎসার জন্য রোহতকের পিজিআই (PGI Rohtak)-এ ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে ঘটনাস্থলে রয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
ঝজ্জরে (Jhajjar) পৃথক দুর্ঘটনা
একই দিনে ঝজ্জরের রেওয়ারি রোড (Rewari Road) আরও একটি দুর্ঘটনা হয়। কুলানা (Kulana) ও গুরুয়াদা (Gurawada) গ্রামের মাঝখানে ঘন কুয়াশায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাক দেখতে না পেয়ে একটি বাস ধাক্কা মারে। এতে বাসচালক গুরুতর জখম হন। প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সামান্য আহত হন। বাসটি রাজস্থানের (Rajasthan) খাটু শ্যাম (Khatu Shyam) থেকে হরিয়ানার বাহাদুরগড় (Bahadurgarh) যাচ্ছিল। আহত চালককে ঝজ্জরের পিজিআই (PGI Jhajjar)-এ রেফার করা হয়েছে।
পাঞ্জাবে কুয়াশায় খালে পড়ল গাড়ি
ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় খালে পড়ল গাড়ি। তলিয়ে মৃত্যু দুই স্কুল শিক্ষকের। তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।
ঠান্ডার দাপট, সতর্কতা জারি
হরিয়ানাতে কয়েক দিন ধরে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ (Cold Wave) চলছে। মৌসম ভবন (IMD) জারি করেছে কোল্ড ওয়েভ অ্যালার্ট। বহু এলাকায় তাপমাত্রা আরও নামতে পারে বলে পূর্বাভাস। পাশাপাশি কোথাও কোথাও ঘন কুয়াশার আশঙ্কা থাকায় গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে তারা। তারপরও এই দুর্ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলছেন স্থানীয়রা।