১৯৮৪-র শিখ-বিরোধী দাঙ্গার (Anti-Sikh Riots Case) তিনটি মামলায় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার নানা ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে ফের বিচার শুরুর নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট।

শিখ-বিরোধী দাঙ্গার ছবি
শেষ আপডেট: 12 August 2025 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৮৪-র শিখ-বিরোধী দাঙ্গার (Anti-Sikh Riots Case) তিনটি মামলায় তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার নানা ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে ফের বিচার শুরুর নির্দেশ দিল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court)। সোমবার পাঁচটি সংশ্লিষ্ট মামলা নিয়ে সুয়োমোটো পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে এই রায়ে জানানো হয়েছে, নিম্ন আদালতকে ওই মামলাগুলির নথি ‘পুনর্গঠন’ করতে হবে, যাতে চূড়ান্তভাবে শুনানি চালানো সম্ভব হয়।
বিচারপতি সুব্রমনিয়ম প্রসাদ ও হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৯৮৬ সালে দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের রাজনগর এলাকায় ঘটে যাওয়া দাঙ্গা-সংক্রান্ত তিনটি মামলায় ট্রায়াল কোর্টের রায় যথাযথভাবে বিবেচিত হয়নি। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “প্রথম দৃষ্টিতে বিচারকৃত রায়গুলি সুপরিকল্পিত বা গভীরভাবে বিবেচিত নয়।”

১৯৮৬ সালে ট্রায়াল কোর্ট ওই তিন মামলায় সমস্ত অভিযুক্তকে বেকসুর খালাস দিয়েছিল। পরে রাজনগরেরই আর এক মামলায় প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ সাজ্জন কুমারের মুক্তির বিরুদ্ধে সিবিআই-এর করা আপিলের সময় এই পাঁচটি মামলা সামনে আসে।
হাইকোর্টের বক্তব্য, এই মামলাগুলিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী, এমনকি প্রত্যক্ষদর্শীরাও আদালতে সাক্ষ্য দেননি। কারণ, দাঙ্গার পর তাঁদের ঠিকানা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল বা তাঁরা বাড়িঘর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। এছাড়া, তদন্ত সংস্থা ‘যথেষ্ট উদ্যোগ’ নেয়নি। আদালতের মতে, একাধিক মামলার জন্য একসঙ্গে চার্জশিট দাখিল করা তদন্তের গাফিলতির ইঙ্গিত দেয়।
বেঞ্চ জানিয়েছে, নথিপত্র ছাড়া এই মামলাগুলির বিচার এগোনো সম্ভব নয়। সাক্ষীর বয়ান, আদালতে পেশ হওয়া নথি, কিংবা সিআরপিসি-র ১৬১ ধারা অনুসারে রেকর্ড হওয়া বিবৃতি— কিছুই নেই। তাই ট্রায়াল কোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেশনস কেস নম্বর ১০/১৯৮৬, ৩১/১৯৮৬ ও ৩২/১৯৮৬-র নথি পুনর্গঠন করতে।
আদালত আশা করছে, এই নথি সিবিআই-এর কাছে থাকতে পারে। কারণ তদন্ত চলাকালীন এগুলি সংস্থার হাতে গিয়েছিল। এছাড়াও, শীর্ষ আদালতের রেজিস্ট্রিতেও থাকতে পারে, যেখানে সিবিআই তদন্তের সময় এই রেকর্ড জমা পড়েছিল। অতীতে গঠিত বিভিন্ন কমিশন ও কমিটির আর্কাইভেও নথি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাইকোর্ট বলেছে, “ভুক্তভোগী ও সমাজ— উভয়েরই অধিকার রয়েছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত বিচার পাওয়ার। সেটি ‘ফে আঁকম্পলি’ (fait accompli)— অর্থাৎ,'ঘটে গেছে' বলে চুপচাপ মেনে নেওয়া কোনওভাবেই চলতে পারে না।”
১৯৮৪-র শিখ-বিরোধী দাঙ্গা নিয়ে একাধিক কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কেহার সিং, গুরপ্রীত সিং, রঘুবিন্দর সিং, নরেন্দ্র পাল সিং ও কুলদীপ সিং— এই পাঁচ শিখ ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে সিবিআই-এর তদন্তে ছ’জন দোষী সাব্যস্ত হন। বর্তমানে সেই মামলার আপিল শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ধার্য করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।